অরুণাচলে আগামী দু-দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
- একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বর্ষণের সতর্কতা, বন্যা ও ধসের আশঙ্কায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ - এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাত জনের মৃত্যু, ২৯ জন আহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৯২ জন ইটানগর, ২৯ জুলাই (হি.স.) : অরুণাচল প্রদেশে আগ
বৃষ্টিপাত_প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র


- একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বর্ষণের সতর্কতা, বন্যা ও ধসের আশঙ্কায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

- এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাত জনের মৃত্যু, ২৯ জন আহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৯২ জন

ইটানগর, ২৯ জুলাই (হি.স.) : অরুণাচল প্রদেশে আগামী দু’দিন বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। রাজ্যে চলমান বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির মধ্যে এই পূর্বাভাসকে কেন্দ্র করে বাসিন্দা এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইটানগরে অবস্থিত আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৩০ এবং ৩১ জুলাই (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) পূর্ব সিয়াং, লোহিত, নামসাই এবং লংডিং জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টায় ৬ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে পাপুমপারে জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। শুক্র এবং শনিবারও জেলায় প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা, আকস্মিক বন্যা এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া লোয়ার সুবনশিরি, লোয়ার দিবাং ভ্যালি এবং লোহিত জেলায় শুক্র ও শনিবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট জেলার বাসিন্দা, যাত্রী এবং জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে আইএমডি। কারণ প্রবল বর্ষণের জেরে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং বিভিন্ন পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, চলতি বর্ষায় অরুণাচল প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব ক্রমশই বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে, ২৯ জন আহত হয়েছেন এবং ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৯২ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

রাজ্যের ২৭টি জেলার সবকটিই বর্ষার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৪৩টি প্রশাসনিক সার্কেল এবং ৫৯৪টি গ্রাম।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে রাজ্যে ব্যাপক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৯৮টি রাস্তা, ৩৮টি সেতু, ৩০টি কালভার্ট, ২৬৫টি পানীয় জল প্রকল্প, ১৫৬টি বিদ্যুৎ লাইন, ২৩৯টি বিদ্যুতের খুঁটি, ৬৩টি সরকারি ভবন, ২৪টি স্কুল, ৪৬টি মাছের পুকুর, ২১টি রিটেনিং ওয়াল এবং ১৬টি বন্যা প্রতিরক্ষা প্রাচীর।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষিক্ষেত্রও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবে, ৭৩৩.৬৬ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৪১৯ হেক্টর উদ্যানপালন এলাকা এবং ৩১৪.৬৬ হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। পাশাপাশি, চলতি বর্ষায় ১,০১০ হেক্টর বনাঞ্চলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 
 rajesh pande