
মোহনপুর (ত্রিপুরা), ৩ জুলাই (হি.স.) : পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোহনপুর মহকুমার লেফুঙ্গা ব্লকের অন্তর্গত ইন্সপেক্টর অফ স্কুল এর অধীন একাধিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার। পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন টিটিএএএডিসি-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, মোহনপুরের মহকুমা শাসক শান্তনু বিকাশ দাস, সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর অফ স্কুল এবং স্থানীয় ব্লকের বিডিও-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।
পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়গুলির পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের দক্ষতা, ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি এবং শিক্ষার সামগ্রিক মান খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, একাধিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি অত্যন্ত কম। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় সমান হলেও শিক্ষার মান আশানুরূপ নয় বলে পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
জেলাশাসক বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার মান যাচাই করেন। সেই সময় দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী দুটি লাইনও শুদ্ধভাবে পড়ে শোনাতে পারেনি। শুধু তাই নয়, জনৈক শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের সামনে দুটি লাইন পড়ে শোনানোর অনুরোধ জানানো হলে তিনিও সন্তোষজনকভাবে তা করতে ব্যর্থ হন বলে পরিদর্শনকারী দলের দাবি। এই ঘটনা উপস্থিত প্রশাসনিক কর্তাদেরও বিস্মিত করে।
পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার বলেন, টিটিএএডিসি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। পরিদর্শনে বেশ কিছু অসঙ্গতি, শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি এবং শিক্ষার মানে দুর্বলতা তাঁর নজরে এসেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
সরকারি বিদ্যালয়ে দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেলাশাসক। তাঁর মতে, বেসরকারি বিদ্যালয়ের তুলনায় সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনীহার অন্যতম কারণ শিক্ষাদানের গুণগত মান ও শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এই আকস্মিক পরিদর্শনের পর টিটিএএডিসি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর শিক্ষা মহল ও অভিভাবকদের।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ