
কলকাতা, ৩ জুলাই (হি.স.) : নদীয়া জেলার নবদ্বীপে শুক্রবার ভোরে এক সুপারি ব্যবসায়ীর আবাসন ও কার্যালয়ে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। নবদ্বীপের মণিপুর এলাকার বাসিন্দা তথা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অশোক অধিকারীর দুটি বাড়িতে এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা একযোগে তল্লাশি অভিযান চালান।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টা নাগাদ ইডির আধিকারিকদের একটি দল ৫টি গাড়ির কনভয় নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে পৌঁছান এবং দ্রুত তল্লাশি প্রক্রিয়া শুরু করেন।
সূত্র মারফত জানা গেছে, অর্থ পাচার বা আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকরা এই পদক্ষেপ করেছেন।
ব্যবসায়ীর ছেলেও সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ইডির এই আকস্মিক অভিযানটি মূলত আর্থিক তছরুপ মামলার তদন্তের সঙ্গেই সম্পর্কিত।
ব্যবসায়ী মহল সূত্রে জানা গেছে, অশোক অধিকারীর সুপারি ব্যবসা কেবল পশ্চিমবঙ্গের বুকেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অসম, ত্রিপুরা সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের (নর্থ-ইস্ট) একাধিক রাজ্যে তাঁর ব্যবসার এক বিশাল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে। এই আন্তঃরাজ্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত নানাবিধ আর্থিক লেনদেন এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই ইডির দল একযোগে তাঁর দুটি বাসভবনে হানা দেয়।
তল্লাশি অভিযান চলাকালীন ইডি আধিকারিকরা বাড়ির ভেতরে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আর্থিক রেকর্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য দরকারি কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার কাজে ব্যস্ত থাকেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ইডির এই ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান জারি ছিল এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা আধিকারিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, এই মামলায় ওই ব্যবসায়ীর আর্থিক লেনদেনের উৎস, তাঁর ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এবং আর্থিক তছরুপের সম্ভাব্য দিকগুলি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তল্লাশি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে যে ঠিক কী কী তথ্যপ্রমাণ উঠে এল এবং আগামী দিনে এই তদন্তের অভিমুখ কোন দিকে এগোবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি