
আগরতলা, ৩ জুলাই (হি.স.) : আমতলি-খয়েরপুর বাইপাস সড়কের মলয়নগর এলাকায় শুক্রবার দুপুরে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ট্রান্সফরমারে হঠাৎ স্পার্ক হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়া দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে আচমকাই ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দের সঙ্গে স্পার্ক হয়। এরপর আগুন দ্রুত ট্রান্সফরমারের উপরের অংশ থেকে নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আশপাশের মানুষ নিরাপদ দূরত্বে সরে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ নিগম ও দমকল বিভাগকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে যোগেন্দ্রনগর সাব-স্টেশনের বিদ্যুৎ নিগমের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পাশাপাশি দমকলের একটি ইঞ্জিনও দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দমকল কর্মীদের তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সম্প্রতি ট্রান্সফরমারের আশপাশে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে থাকা গাছের লতা-পাতা বিদ্যুৎ নিগমের কর্মীরা কেটে ফেলেছিলেন। কাটা লতাগুলো শুকিয়ে ট্রান্সফরমারের কাছেই পড়ে ছিল। শুক্রবার সেগুলো ট্রান্সফরমারের সংস্পর্শে আসতেই স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রান্সফরমারের ওপর ও নিচে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এই অগ্নিকাণ্ডে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বা সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রান্সফরমারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ নিগমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর প্রথমেই বিদ্যুৎ নিগমে খবর দেওয়া হলেও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ দেরি করেন। এরই মধ্যে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুৎ নিগমের এই বিলম্ব ও খামখেয়ালিপনার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ট্রান্সফরমারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ