
হাইলাকান্দি (অসম), ৩ জুলাই (হি.স.) : আগামী ২ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত হাইলাকান্দি জেলায় আদমশুমারির (জনগণনা) স্ব-গণনা কার্যক্রম শুরু হবে। আদমশুমারির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ গত ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত হাইলাকান্দিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পর ২৯ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত একটি নিবিড় ফিল্ড ট্রেইনার্স প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বরিষ্ঠ বিভাগীয় আধিকারিকগণ এবং স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনভেস্টিগেটর সুরজিৎ দে। সমগ্র প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করেন স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনভেস্টিগেটর বুলেট পরিদা।
এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রিন্সিপাল সেন্সাস অফিসার তথা জেলাশাসক এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক (সেন্সাস) ওই অধিবেশনে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেন। নবপ্রশিক্ষিত ফিল্ড ট্রেইনাররা এবার জেলাজুড়ে প্রায় ১,৫০০ সুপারভাইজার এবং গণনাকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করতে প্রস্তুত, যা আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে বা তার আগে সম্পন্ন হবে।
প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। তাই জেলা প্রশাসন সাধারণ জনগণের সুবিধার্থে আদমশুমারি কার্যক্রমের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এই প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট স্ব-গণনা উইন্ডোর মাধ্যমে হাইলাকান্দি জেলা সহ সমগ্র অসমে আগামী ২ আগস্ট শুরু হয়ে চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। যার ফলে নাগরিকরা ডিজিটালভাবে তাঁদের বিবরণ নথিভুক্ত করতে পারবেন।
উইন্ডো বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে আগামী ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সশরীরে গৃহ-তালিকাভুক্তি (হাউস-লিস্টিং) এবং গৃহ-গণনা অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়কালে গণনাকারীরা শারীরিক ম্যাপিং এবং যাচাইকরণের জন্য মাঠে নামবেন।
একটি নির্বিঘ্ন ডিজিটাল কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রশাসন অনলাইন স্ব-গণনা পর্বের জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী বা রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। নাগরিকদের প্রথমে অফিশিয়াল পোর্টাল https://se.census.gov.in/ এ যেতে হবে। এর পর মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে এবং একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। তাঁদের ক্রেডেনশিয়াল দিয়ে লগ ইন করার পর ব্যবহারকারীদের মনোযোগ সহকারে পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত বিবরণ পূরণ করতে হবে এবং সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাবমিট বা জমা দেওয়ার সময় বাসিন্দাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে তাঁদের ডিভাইসের 'লোকেশন শেয়ারিং' অপশনটি চালু থাকে, যাতে সাবমিশনের সময় ভবনের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক রেকর্ড করা যায়। এই ভৌগোলিক তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত টোকেন বৈধ হবে না। জমা দেওয়ার পর একটি সেলফ-এনিউমারেশন রেফারেন্স নম্বর তৈরি হবে, যা সংরক্ষণ করতে হবে এবং পরবর্তীতে গণনাকারী যখন গৃহ-তালিকাভুক্তির জন্য সশরীরে পরিদর্শনে যাবেন, তখন তাঁকে এটি প্রদান করতে হবে।
অত্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচির কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন হাইলাকান্দির সমস্ত বাসিন্দাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের অনলাইন ডেটা এন্ট্রি সম্পন্ন করে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে এবং পরবর্তী মাঠপর্যায়ের গণনা পর্বের সময় ফিল্ড অফিসারদের পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস