ত্রিপুরায় রেশম শিল্পের প্রসারে সরকারের নতুন রোডম্যাপ
আগরতলা, ৩ জুলাই (হি.স.) : রাজ্যে রেশম শিল্পের প্রসার, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে একাধিক নতুন উদ্যোগ নিল ত্রিপুরা সরকার। আগামী দিনে আরও ৫০০ জন রেশম চাষীকে নতুন রেশম বাগান গড়ে তুলতে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি হস্তচালিত তাঁত, হ
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা


আগরতলা, ৩ জুলাই (হি.স.) : রাজ্যে রেশম শিল্পের প্রসার, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে একাধিক নতুন উদ্যোগ নিল ত্রিপুরা সরকার। আগামী দিনে আরও ৫০০ জন রেশম চাষীকে নতুন রেশম বাগান গড়ে তুলতে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি হস্তচালিত তাঁত, হস্তশিল্প ও রেশম চাষ দপ্তরে শীঘ্রই ১২০ জন সেরিকালচার ইন্সপেক্টর নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা।

শুক্রবার আগরতলায় পূর্বাশা কমপ্লেক্সে ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত 'মেরা রেশম, মেরা অভিমান–২.০' কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই কথা জানান।তসর ও প্রাকৃতিক রেশম চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং রেশম শিল্পের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে দেশব্যাপী এই বিশেষ প্রচার অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারই অংশ হিসেবে ত্রিপুরায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে রেশম চাষের সঙ্গে যুক্ত বহু সুবিধাভোগীর হাতে সোলার লাইট, টুল কিট এবং রেশম চাষের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল-সহ দফতরের অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, ত্রিপুরার উর্বর মাটি কৃষি ও রেশম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই মাটিতে শুধু খাদ্যশস্য নয়, অর্থকরী ফসলও উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার যৌথভাবে রাজ্যের হস্তচালিত তাঁত, হস্তশিল্প ও রেশম শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী জানান, রেশম চাষের পরিধি বাড়াতে আরও ৫০০ জন নতুন চাষীকে রেশম বাগান তৈরির সুযোগ করে দেওয়া হবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং বহু পরিবার স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি দফতরের কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় শীঘ্রই ১২০ জন সেরিকালচার ইন্সপেক্টর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, রেশম শিল্পকে বহুমুখী করার লক্ষ্যে রাজ্যে বিকল্প তন্তু উৎপাদনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আনারসের পাতা থেকে উন্নতমানের ও মূল্যবান সূতো তৈরি করা সম্ভব। একইভাবে কলাগাছ থেকেও পরিবেশবান্ধব সূতো উৎপাদন করা যায়। এই প্রযুক্তি সম্পর্কে রেশম চাষী ও সুবিধাভোগীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে পারেন।

বিকাশ দেববর্মা জানান, রাজ্যের উৎপাদিত রেশম থেকেই ভবিষ্যতে ত্রিপুরায় রেশমের শাড়ি তৈরি করা হবে। এতে স্থানীয় তাঁত শিল্পের বিকাশ ঘটবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ত্রিপুরার রেশম শিল্প নতুন পরিচিতি লাভ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রেশম চাষীদের উদ্দেশে মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুযোগ গ্রহণ করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রেশম শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande