বিরোধী বিধায়করা পাবেন সমান সম্মান ও গণতান্ত্রিক অধিকার, বিধানসভায় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
কলকাতা, ৩ জুলাই (হি.স.) : নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য আয়োজিত দু''দিনের ওরিয়েন্টেশন (অভিযোজন) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী বিধায়কদের আরও বেশি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সম্মান দেওয়ার আশ্বাস দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শু
শুভেন্দু অধিকারী


কলকাতা, ৩ জুলাই (হি.স.) : নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য আয়োজিত দু'দিনের ওরিয়েন্টেশন (অভিযোজন) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী বিধায়কদের আরও বেশি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সম্মান দেওয়ার আশ্বাস দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তিনি বলেন, রাজ্যে পূর্ববর্তী সরকারগুলির আমলে বিরোধীদের জন্য পর্যাপ্ত গণতান্ত্রিক স্থান ছিল না, তবে তাঁর সরকার এই ব্যবস্থার পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চলা বামফ্রন্ট শাসনের সময় বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই শাসক দলের কার্যালয় থেকে পরিচালিত হতো। এরপর ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের শাসনকালের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময়কালে বিরোধী বিধায়করা যোগ্য সম্মান পাননি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী বিধায়কদের টেলিফোন পর্যন্ত ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) বা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা (আইসি) তুলতেন না এবং সরকারি কর্মসূচিতে কেবল শাসক দলের বিধায়কদেরই আমন্ত্রণ জানানো হতো। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজে পাঁচ বছর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ছিলেন, কিন্তু তাঁকে একটিও সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকারের প্রথম দু'মাসে তিনি এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। বিগত প্রায় দেড় মাসে আয়োজিত পাঁচটি প্রশাসনিক বৈঠকে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের বিধায়কদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি বাজেট প্রক্রিয়াতেও বিরোধীদের সামিল করা হয়েছে। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন সব দলকে সঙ্গে নিয়েই সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস—উভয় পূর্ববর্তী সরকারের আমলেই বিধানসভার কার্যপ্রণালী নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এখনও বিধানসভায় কাগজের মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়া চলে, ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। বিধানসভার পরিকাঠামোরও আধুনিকীকরণ প্রয়োজন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষের বিধায়কদের ভূমিকা এবং জনসংযোগ মজবুত করা জরুরি। সরকারের উদ্দেশ্য কোনও দল নয়, বরং জনগণের জন্য কাজ করা। মুখ্যমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন যে, সকলের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ আবারও দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দিশায় এগিয়ে যাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande