
আগরতলা, ৩ জুলাই (হি.স.) : পানীয় জল পরিশোধনে ব্যবহৃত ফিটকিরির গুণমান ও ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি (ডিডব্লিউএস) দফতর অধিকর্তার কাছে স্মারকলিপি জমা দিল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। শুক্রবার গোর্খাবস্তিস্থিত ডিডাব্লিউএস দফতরের কার্যালয়ে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ডেপুটেশন দিয়ে পানীয় জল পরিশোধনে কোন মানের ফিটকিরি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়। তবে দফতরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে জনস্বার্থে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, পানীয় জল পরিশোধনে ব্যবহৃত সামগ্রী নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এদিন ডিডব্লিউএস দফতরে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলের অভিযোগ, ডেপুটেশন দিতে গিয়ে প্রথমে তাঁরা বাধার সম্মুখীন হন। পরে অধিকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে মূলত জানতে চাওয়া হয়, পানীয় জল পরিশোধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গ্রেড-৪ ফিটকিরির পরিবর্তে কম দামের গ্রেড-২ ফিটকিরি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না। কংগ্রেসের দাবি, গ্রেড-২ ফিটকিরির মূল্য গ্রেড-৪-এর তুলনায় প্রায় ছয় গুণ কম এবং সাধারণত শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত জল পরিশোধনের কাজে এই মানের ফিটকিরি ব্যবহার করা হয়। অথচ বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন জল পরিশোধন কেন্দ্রে গ্রেড-২ ফিটকিরি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাঁদের কাছে অভিযোগ এসেছে। যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে রাজ্যবাসীর স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আরও জানতে চান, কোন সংস্থা বা ঠিকাদারের মাধ্যমে ফিটকিরি কেনা হচ্ছে, কীভাবে তার গুণমান নির্ধারণ করা হয় এবং জল পরিশোধনের ক্ষেত্রে কী ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। অভিযোগ, ডিডব্লিউএস দফতরের অধিকর্তা এসব বিষয়ে কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি প্রতিনিধি দলকে চিফ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে পাঠালেও সেখান থেকেও সন্তোষজনক তথ্য মেলেনি। শেষ পর্যন্ত আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত তথ্য লিখিতভাবে দেওয়ার আশ্বাস দেন দফতরের অধিকর্তা।
ডেপুটেশনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, দফত পানীয় জল বিশুদ্ধকরণের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ তথ্য দিলেও ব্যবহৃত ফিটকিরির গুণমান, সরবরাহকারী সংস্থা এবং ক্রয় পদ্ধতি সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। এতে গোটা বিষয়টি নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় কেনা সামগ্রীর মান সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা উচিত। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য না দিলে রাজ্যবাসীর স্বার্থে প্রদেশ কংগ্রেস বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটবে।
এদিনের ডেপুটেশনে শুধু ফিটকিরির বিষয়ই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জলবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, বহু জায়গায় পাইপলাইনের ত্রুটি, দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত বা ঘোলা জল সরবরাহ এবং পানীয় জলের সামগ্রিক মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রদেশ কংগ্রেস। প্রতিনিধি দলের দাবি, এই সমস্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানে ডিডাব্লিউএস দফতরকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও পরিশ্রুত পানীয় জল পেতে পারেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ