মাস্টার প্লানে উপেক্ষিত খানাকুল
আরামবাগ , ৩ জুলাই (হি.স.): রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং সাধারণ মানুষের দাবির কেন্দ্রে থা
বন্যা বিধ্বস্ত খানাকুল


আরামবাগ , ৩ জুলাই (হি.স.): রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং সাধারণ মানুষের দাবির কেন্দ্রে থাকা এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ঘাটাল মহকুমায়। তবে একইসঙ্গে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে প্রতিবেশী বিধানসভা বন্যাপ্রবণ খানাকুলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা সামলানো সত্ত্বেও বাজেটে তাদের জন্য আলাদা কোনও উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হয়নি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রতিটি নির্বাচনের আগে এই প্রকল্প নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। ঘাটালের সাংসদ ও অভিনেতা দেব একাধিকবার সংসদে এই প্রকল্পের দাবি তুলেছিলেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে নতুন সরকারের বাজেটে ১২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা হওয়ায় স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ও আশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ঘাটালের এই সুখবরের মধ্যেই হতাশার সুর শোনা যাচ্ছে খানাকুলে। স্থানীয়রা দাবি, বাস্তবে প্রতি বছর ঘাটালের তুলনায় অনেক বেশি এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় খানাকুলে। দ্বারকেশ্বর, মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ-সহ একাধিক নদ-নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় বর্ষা এলেই কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হন, কৃষিজমি নষ্ট হয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।

বিগত কয়েক বছরে এই পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী মুক্তির দাবিতে জোরালো হয়েছে ‘খানাকুল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়নের দাবি। ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায়ের জন্মভূমি খানাকুলে এবিষয়ে একটি নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির উদ্যোগে একাধিক গণস্বাক্ষর অভিযান, মিছিল, পথসভা এবং প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি হয়েছে। এলাকার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—অনেকেই এই দাবিতে সরব হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত আন্দোলন ও দাবি সত্ত্বেও পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বন্যা নিয়ন্ত্রণে কোনও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে এবার নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটকে ঘিরে খানাকুলবাসীর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। তাঁদের আশা ছিল, অন্তত একটি বিশেষ প্রকল্প বা মাস্টার প্ল্যানের ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, ঘাটালের পাশে দাঁড়ালেও খানাকুল আবারও উপেক্ষিত রয়ে গেল। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি মানতে নারাজ স্থানীয় বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ। শুক্রবার তিনি জানান , খানাকুলের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি নিয়মিত বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন এবং এলাকার সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, সরকার খানাকুলের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। বাঁধ নির্মাণ, স্লুইস গেট তৈরি সহ একাধিক প্রকল্পের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই অনেকটা এগিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী দিনেও তিনি খানাকুল মাস্টার প্ল্যান-সহ এলাকার বিভিন্ন দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে রাজনৈতিক আশ্বাসের বাইরে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—আর কতদিন অপেক্ষা? প্রতি বর্ষায় যখন ঘরবাড়ি, ফসল, রাস্তা ও জীবিকা জলের তলায় চলে যায়, তখন শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য অর্থ বরাদ্দ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু একইসঙ্গে বন্যাপীড়িত খানাকুলের জন্যও একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার প্ল্যানের দাবি যে আরও জোরালো হবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ঘাটালের পর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় খানাকুল কত দ্রুত অগ্রাধিকার পায়। কারণ বন্যা শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও।

হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA




 

 rajesh pande