উদ্বোধনের অপেক্ষায় আগরতলা সিভিল হাসপাতাল, কমবে জিবিপি ও আইজিএম-এর চাপ
আগরতলা, ৩ জুলাই (হি.স.) : উদ্বোধনের অপেক্ষায় আগরতলা সিভিল হাসপাতাল। রাজধানীর কাঁসারিপট্টিস্থিত ঐতিহ্যবাহী লালবাড়িতে গড়ে ওঠা আগরতলা পুর নিগম পরিচালিত এই ৫০ শয্যার হাসপাতাল আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার হাত ধরে আন
সিভিল হাসপাতালে মেয়র


আগরতলা, ৩ জুলাই (হি.স.) : উদ্বোধনের অপেক্ষায় আগরতলা সিভিল হাসপাতাল। রাজধানীর কাঁসারিপট্টিস্থিত ঐতিহ্যবাহী লালবাড়িতে গড়ে ওঠা আগরতলা পুর নিগম পরিচালিত এই ৫০ শয্যার হাসপাতাল আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। হাসপাতালটি চালু হলে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবিপি হাসপাতাল ও দ্বিতীয় রেফারেল হাসপাতাল আইজিএম হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে এবং আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার।

শুক্রবার হাসপাতালের চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগরতলা সিভিল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (এনএইচএম) রাজ্য অধিকর্তা সাজু ওয়াহিদ, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্য সচিব জানান, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আর্থিক সহায়তায় শহরবাসী ও রাজ্যবাসীকে উন্নত প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জিবিপি ও আইজিএম হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জিবিপি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগরতলা সিভিল হাসপাতাল চালু হলে সাধারণ রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যপরিষেবা এখান থেকেই গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে বড় হাসপাতালগুলিতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে এবং গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

কিরণ গিত্যে আরও জানান, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যেই সাতজন চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্যারামেডিকেল কর্মী ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালের অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শীঘ্রই হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে।

এদিন আগরতলা পৌর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় এই হাসপাতাল বাস্তব রূপ পেয়েছে। শহরের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যপরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, উদ্বোধনের সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

মেয়রের দাবি, হাসপাতাল চালু হলে রাজধানী আগরতলার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও প্রাথমিক চিকিৎসা, বহির্বিভাগের পরিষেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা এখান থেকেই পাবেন। এতে সাধারণ রোগীদের জিবিপি বা আইজিএম হাসপাতালে ছোটখাটো চিকিৎসার জন্য ছুটে যেতে হবে না। একই সঙ্গে রাজ্যের দুই প্রধান সরকারি হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে জিবিপি ও আইজিএম হাসপাতালের মতোই বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা, বহির্বিভাগ, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। হাসপাতালটির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যপরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande