বস্তারের মাঝি-চালকিদের বিশেষ ভোজ, নিজে হাতে খাবার পরিবেশন করলেন রাষ্ট্রপতি
নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই (হি.স.): বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল থেকে আগত ২০৯ সদস্যের এক জনজাতি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ''বস্তার পণ্ডুম-২০২৬''-এর বিজয়ী প্রতিযোগী, মাঝি-চালকি এবং অন্যান্য জনজাতি প্
খাবার পরিবেশন করছএন রাষ্ট্রপতি


নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই (হি.স.): বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল থেকে আগত ২০৯ সদস্যের এক জনজাতি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। 'বস্তার পণ্ডুম-২০২৬'-এর বিজয়ী প্রতিযোগী, মাঝি-চালকি এবং অন্যান্য জনজাতি প্রতিনিধিদের সম্মানে এক বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নিজে হাতে অতিথিদের খাবার পরিবেশন করেন এবং ভবিষ্যতে 'বস্তার দশেরা' ও 'বস্তার পণ্ডুম'-এ যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেব সাইয়ের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছানো এই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় শর্মা, সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী রাজেশ আগরওয়াল, বস্তার পণ্ডুমের বিজয়ী প্রতিযোগী, পরগনা মাঝি, মাঝি, চালকি, পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

প্রতিনিধিদলের সাথে আন্তরিক আলাপচারিতায় রাষ্ট্রপতি বস্তারের উপজাতীয় সংস্কৃতি, লোকশিল্প, ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ব্যবস্থা এবং বস্তার পণ্ডুম আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বস্তার পণ্ডুম হলো ছত্তিশগড়ের সমৃদ্ধ জনজাতির ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক জীবন্ত উৎসব, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বস্তারের অনন্য পরিচয় গড়ে তুলেছে। এই ধরনের অনুষ্ঠান যুবসমাজকে নিজেদের শিকড়ের সাথে যুক্ত করার পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি মুর্মু আরও বলেন, সরকারি প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের ফলে বস্তার আজ শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এক নতুন পথে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি সমগ্র দেশের জন্যই আনন্দের বিষয়। সমাজ ও প্রশাসনের মধ্যে 'মাঝি' এবং 'চালকি'-দের ভূমিকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী সাইয়ের অনুরোধে রাষ্ট্রপতি ভবিষ্যতে বস্তার দশেরা এবং বস্তার পণ্ডুমে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে জানান, বস্তার দশেরা তাঁর হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে। ভগবান জগন্নাথের কাষ্ঠনির্মিত মূর্তি এবং বস্তার দশেরার অনন্য ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তারের সাথে তাঁর এক আত্মিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি আবেগঘনভাবে জানান, মাঝি সম্প্রদায় তাঁর পরিবারেরই অংশ এবং তাঁর বাবাও একজন মাঝি ছিলেন।

এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, তিনি বহুবার রাষ্ট্রপতি ভবনে এসেছেন, কিন্তু এই প্রথমবার বস্তারের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে এত বিশাল জনজাতি ও প্রতিনিধিদলকে দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

অনুষ্ঠান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী সাই রাষ্ট্রপতিকে বস্তারের প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো প্রেমকাহিনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি 'ঝিটকু-মিটকি'-র একটি অনন্য শিল্পকর্ম উপহার দেন। এর পাশাপাশি প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতি ভবন ঘুরে দেখে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য লাভ করে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande