
গুয়াহাটি, ৩০ জুলাই (হি.স.) : উজান অসমের বন্যাকবলিত জেলাগুলির ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শেষ করেছে ছয় সদস্যের ‘ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল সেন্ট্রাল টিম’ (আন্তঃমন্ত্রক কেন্দ্রীয় দল) সংক্ষেপে আইএমসিটি। দিশপুরে জনতা ভবন-এ রাজ্যের মুখ্যসচিব ড. রবি কোটার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিনিধিদল তাদের সফর শেষ করেছে।
বৈঠকে রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব তথা অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক এল সুইটি চাংসন সাম্প্রতিক বন্যার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা এবং নজিরবিহীন এই দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের সামনে আসা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মসচিব এম রামচন্দ্রুডুর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল ২৬ জুলাই চড়াইদেও, ২৭ জুলাই শিবসাগর এবং ২৮ জুলাই যোরহাট ও গোলাঘাট জেলা পরিদর্শন করে বন্যার প্রভাব সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছে।
পর্যালোচনা বৈঠকে অসম সরকারের বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), ভারতীয় সেনাবাহিনী, নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে, সংক্ষেপে এনএফআর), ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া, ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড, দূরসংযোগ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট চার জেলার প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চড়াইদেও, শিবসাগর, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলায় এবারের বন্যা অতীতের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। বিশেষ করে চড়াইদেও ও শিবসাগর ঐতিহাসিকভাবে বন্যাপ্রবণ জেলা নয়। কিন্তু গত ১৯ জুলাই নাগাল্যান্ডে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত, বিশেষ করে মোকোকচুং, ওখা এবং মন জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টির পাশাপাশি চড়াইদেও ও শিবসাগরে স্থানীয়ভাবে অতিবৃষ্টির ফলে নজিরবিহীন এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বৈঠকে আবাসন, জীবিকা ও বিভিন্ন পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা কর্মী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিবসাগর ও চড়াইদেও জেলায় প্রতিবেশী জেলা থেকে চাল, ডাল, সরিষার তেল, লবণ ও মোমবাতি সহ পারিবারিক ত্রাণ কিট পাঠানো হচ্ছে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ এখনও চলছে। বন্যা মরশুম শেষ হওয়ার পর একটি পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির স্মারকলিপি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মানুষের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে এসডিআরএফ-এর আর্থিক সহায়তার মানদণ্ডে কিছু শিথিলতা আনার আবেদনও জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধিদল আশ্বাস দিয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যাতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।
উল্লেখ্য, এম রামচন্দ্রুডু ছাড়াও প্রতিনিধিদলে কেন্দ্রীয় জল কমিশন, অর্থ মন্ত্রক, গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক, সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক এবং ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার-এর প্রতিনিধিরা ছিলেন। বৈঠকে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অসম সরকারের প্রাণিসম্পদ ও পশুচিকিৎসা, শিল্প এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস