সিজেপি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি, দিল্লি সরকারের অবস্থানে অসন্তোষ সৌরভ দাসের
নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই (হি.স.): নিট (ইউজি) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনও প্রতিকূল আইনি পদক্ষেপ করা হবে না বলে ঘোষণা করেছে দিল্লি সরকার। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে
সিজেপি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি, দিল্লি সরকারের অবস্থানে অসন্তোষ সৌরভ দাসের


নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই (হি.স.): নিট (ইউজি) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনও প্রতিকূল আইনি পদক্ষেপ করা হবে না বলে ঘোষণা করেছে দিল্লি সরকার। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তাঁরা এই ছাড়ের আওতায় থাকবেন না।

উপ-রাজ্যপাল তরনজিৎ সিং সান্ধুর অনুমোদনের পর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার বা আটক হওয়া ব্যক্তিদের মামলার পর্যালোচনা করে দ্রুত মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ২৯ জুলাই পর্যন্ত নিট -সংক্রান্ত বিক্ষোভের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ মোট ১৩টি মামলা দায়ের করেছিল। সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনও পদক্ষেপ করা হবে না এবং মামলাগুলিকে কার্যত নিষ্পত্তি বলে গণ্য করা হবে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সিজেপি। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাসের দাবি, সরকার জানিয়েছে এফআইআরগুলির তদন্ত আর এগিয়ে নেওয়া হবে না এবং সেগুলিকে ‘ক্লোজড’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু তাঁর মতে, শুধু ‘বন্ধ’ নয়, সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে এফআইআরগুলি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

সৌরভ দাস বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ব্যাখ্যা ভুলভাবে তুলে ধরে সরকার দাবি করছে যে এফআইআর প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। অথচ আদালতের কোথাও এমন নির্দেশ নেই। তাঁর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। ২৫ জুলাই যন্তর-মন্তরে যে সমঝোতা হয়েছিল, সরকারকে তা সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর সতর্কবার্তা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হলে দেশের যুবসমাজ তা মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে আবারও রাস্তায় নামবে।

আন্দোলনের সময় কিছু বিক্ষোভকারীর আপত্তিকর মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন সৌরভ দাস। তিনি বলেন, কেউ যদি মানহানিকর ভাষা ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করতে পারেন। তবে শুধুমাত্র আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, এমন পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে, যা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে যুবসমাজকে সংযত ভাষা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মত প্রকাশের সময় সকলেরই দায়িত্বশীল থাকা উচিত। পাশাপাশি পুলিশের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, আইন প্রয়োগের ক্ষমতার অপব্যবহার না করে শান্ত ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande