
গুয়াহাটি, ৩০ জুলাই (হি.স.) : উজান অসমে চলমান ভয়াবহ বন্যাকে ‘ব্যতিক্রমী ও অতি তীব্র আকস্মিক দুর্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য বিশেষ কেন্দ্রীয় আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেছেন, এই বন্যা নজিরবিহীন এবং এর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।
এই দাবিগুলি ‘ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল সেন্ট্রাল টিম’ (আন্তঃমন্ত্রক কেন্দ্রীয় দল)-এর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। চার দিনের সফর শেষে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল বুধবার বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং পরিকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ পর্যালোচনা করে।
আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেছেন, এই বন্যা আপার আসামে ‘ধ্বংসের এক দীর্ঘ চিহ্ন’ রেখে গেছে। তবে রাজ্য সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আশ্বাসের পরই আন্তঃমন্ত্রক কেন্দ্রীয় দলের এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের কাছে রাজ্য সরকার আবেদন করেছে যাতে আপার আসামের এই বন্যাকে ‘অ্যাটিপিক্যাল, হাই-ইন্টেনসিটি, রেপিড-অনসেট ইভেন্ট’ বা ‘অস্বাভাবিক ব্যতিক্রমী, অতি তীব্র ও আকস্মিক দুর্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা আনা সম্ভব হবে।
এছাড়া শিবসাগর, চড়াইদেও, যোরহাট এবং গোলাঘাট জেলার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় সহায়তা প্যাকেজেরও দাবি জানানো হয়েছে। এই প্যাকেজের অর্থ ত্রাণ কার্যক্রম, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ, পরিকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবিকা পুনর্বাসনের কাজে ব্যয় করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অসম সরকার আরও দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় ও কেন্দ্র-পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে নথিপত্র এবং যোগ্যতার শর্ত কিছুটা শিথিল করা হোক। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, সেতু, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য জেলা-ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পাহাড়ি নদীগুলির ভেঙে যাওয়া বাঁধ ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর দ্রুত বহুসংস্থা-ভিত্তিক সমীক্ষা করে আগামী বর্ষার আগেই সেগুলিকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছে রাজ্য। একই সঙ্গে আবাসন, পানীয় জল, কৃষি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় প্রকল্পগুলির সঙ্গে দুর্যোগ-সহায়তা কর্মসূচির সমন্বয় সাধনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মহিলা, শিশু, প্রবীণ এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে একটি উত্তর-পূর্ব দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থা (নর্থইস্ট ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন মেকানিজম) গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে অসম সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল সেন্ট্রাল টিম’ সরেজমিনে পরিদর্শনের ভিত্তিতে রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতি, প্রয়োজন এবং দাবিগুলি যথাযথভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস