জাপানের সহযোগিতায় অসমকে এশিয়ার শিল্প হাব হিসেবে গড়ে তোলার পথে অগ্রসর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব : প্রদেশ বিজেপি
গুয়াহাটি, ৪ জুলাই (হি.স.) : ‘জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ভারত সফরের সময় জাপানের সংসদীয় অধিবেশন চলমান থাকায় অসম সফরের কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও জাপান সর্বদাই অসমের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। বিচক্ষণ, কর্মদক্ষ এবং অসমের ইতিহাসের অন্যতম
জাপানের সহযোগিতায় অসমকে এশিয়ার শিল্প হাব হিসেবে গড়ে তোলার পথে অগ্রসর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব : প্রদেশ বিজেপি


গুয়াহাটি, ৪ জুলাই (হি.স.) : ‘জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ভারত সফরের সময় জাপানের সংসদীয় অধিবেশন চলমান থাকায় অসম সফরের কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও জাপান সর্বদাই অসমের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। বিচক্ষণ, কর্মদক্ষ এবং অসমের ইতিহাসের অন্যতম দূরদর্শী নেতা ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার আন্তরিক প্রচেষ্টায় জাপানের সঙ্গে অসমের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।’ বলেছেন অসম প্ৰদেশ বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র মানস শরণিয়া।

এক বিবৃতিতে মানস বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মার নেতৃত্বে জাপান অসমে ব্যাপক বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে জাপান সফর করেছেন এবং জাপানের প্রতিনিধিদের অসমে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন ও পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অষ্টলক্ষ্মী’ উদ্যোগের লক্ষ্য অনুযায়ী উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে এবং ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার লক্ষ্য অনুযায়ী অসমকে শিল্প হাব হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক ভারত সফরের প্রসঙ্গে মানস বলেন, ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার উদ্যোগে ওই সফরের সময় অসম বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইতিমধ্যে জাপান অসমে বহু প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে এবং আরও বহু প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে।

ভারত-জাপান ষোড়শ বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে অসম বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৬ সালের আসন্ন ভারত-জাপান শীর্ষ সম্মেলনে পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি উচ্চ প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, সাপ্লাই চেইন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হবে, যেখানে অসম একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

জাপানের ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ওনো কেইইচি জাগিরোডে টাটা সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। টোকিও ইলেকট্রনের মতো জাপানি প্রযুক্তি সংস্থাগুলি আধুনিক সরঞ্জাম ও পরিকাঠামো সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওনো। চিপ রফতানির জন্য বিশেষ জাপানি লজিস্টিকস সংস্থাও সহযোগিতা করবে।

জাইকার সহযোগিতায় এ-সেমি নামক নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা পরীক্ষাগার স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে। গুয়াহাটির নিকটবর্তী নগরবেড়ায় প্রায় ৬০০ একর জমিতে জাপানি শিল্পের জন্য একটি বিশেষ শিল্পনগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারকে লক্ষ্য করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ঘোষণা করেছেন, এই উদ্যোগের অধীনে অসম থেকে বাংলাদেশ হয়ে মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত একটি শিল্প করিডর গড়ে তোলা হবে, যার ফলে স্থলবেষ্টিত উত্তরপূর্ব ভারতের ভারত মহাসাগরে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে।

নতুন ‘জাপান-ভারত বায়োগ্যাস-ভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগিতা অভিযান’-এর অধীনে অসমের গ্রামীণ অঞ্চলের কৃষি ও জৈব বর্জ্য থেকে বায়ো-সিএনজি ও জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অসমের দুগ্ধ শিল্পেও জাপানের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ চলছে। সুজুকি আরঅ্যান্ডডি সেন্টার ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ডেইরি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড এবং নর্থ ইস্টার্ন ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে কমপ্রেসড বায়োগ্যাস প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিজ বর্জ্য ও দুগ্ধ শিল্পের বর্জ্যকে পরিচ্ছন্ন শক্তি ও জৈব সার হিসেবে রূপান্তর করা হবে, যা বিশেষভাবে গুয়াহাটির পুরবী ডেয়ারি-র সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের উপকারে আসবে।

মানস শরণিয়া আরও বলেন, জাইকা (জেআইসিএ)-র মাধ্যমে অসমে হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন সাহায্য (ওডিএ) বিনিয়োগ হয়েছে। ধুবুড়ি-ফুলবাড়ি ব্রহ্মপুত্র সেতু, গুয়াহাটির পানীয় জল ও নিকাশি ব্যবস্থা, সড়ক উন্নয়ন, বাঁশ সম্পদ-ভিত্তিক জৈব জ্বালানি প্রকল্প, ‘মুখ্যমন্ত্ৰীর ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল হিউম্যান টেলেন্ট’ (সিএম-এফএলআইজিএইচটি)-এর বলে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে অসমের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শরণিয়া বলেন, এ সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প সম্ভব হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার দূরদর্শিতার দরুন। জাপানের সহযোগিতায় অসমের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, বলেন তিনি।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande