
ইটানগর, ৪ জুলাই (হি.স.) : আবহাওয়া পরিষ্কার। ফলে অরুণাচল প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম ও মানুষের সংখ্যা কমেছে। তবে বিভিন্ন জেলায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
রাজ্য জরুরি পরিচালন কেন্দ্র (এসইওসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন বন্যাসংক্রান্ত ঘটনার খবর কেবল পশ্চিম সিয়াং এবং পাপুমপারে জেলা থেকে পাওয়া গেছে। পশ্চিম সিয়াং জেলার পাঁচটি সার্কলের অন্তর্গত ২৪টি গ্রাম এখনও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে, পাপুমপারে জেলার দুটি সার্কলের সাতটি গ্রামে বন্যার প্রভাব রয়েছে।
এসইওসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবহাওয়ার উন্নতির ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। কেয়ি পানিয়র জেলার পোতিন-হোজ সড়ক পুনরায় চালু করা এবং লেপা রাডা জেলার নিয়োদু-সিবে সিরু এনএলসিপিআর সড়ক পরিষ্কারের কাজও অব্যাহত।
গত ২৪ জুন থেকে শুরু হয়েছিল ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে রাজ্যজুড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছিলেন ২১ জন। কেয়ি পানিয়র জেলায় হড়পা বানে জলে ভেসে যাওয়া দুই মহিলা এখনও নিখোঁজ। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এসইওসি জানিয়েছে, রাজ্যের ২৬টি জেলার ২৫১টি গ্রামের প্রায় ৯০,৪৯৯ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে আপার সিয়াং জেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর পর রয়েছে সিয়াং, ক্রা দাদি এবং পূর্ব কামেং জেলা।
এবারের দুর্যোগে সরকারি পরিকাঠামো, কৃষি এবং উদ্যানপালন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবে ৩৩০ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১২১টি সড়ক, ১৩টি সেতু, ১৮টি কালভার্ট, ১৮৪টি পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা, ২১টি বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন, ৬০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি, দুটি হাসপাতাল এবং ৫৮টি সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত শত বাড়িঘর, গবাদি পশু এবং অন্যান্য জনপরিষেবা ব্যবস্থাও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কেয়ি পানিয়র জেলায় স্থাপিত দুটি ত্রাণ শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন আশ্রিত। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), পুলিশ, দমকল বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলি উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে নিরলসভাবে নিয়োজিত রয়েছে।
এসইওসি আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনও মৃত্যুর ঘটনা, আহত বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি এবং জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস