
দুর্গাপুর, ৪ জুলাই (হি.স.) : শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে অবস্থান-বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা এলাকার নমো সগড়ভাঙার একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানার ৪ নম্বর গেট। আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরাতে গেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
জানা গিয়েছে, ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর নেতৃত্বে শ্রমিক ও সমর্থকেরা শুক্রবার থেকে কারখানার গেটের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, আগাম নোটিস ছাড়াই একের পর এক শ্রমিককে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় যোগ্য যুবকদের বঞ্চিত করে বহিরাগতদের নিয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এই অভিযোগগুলির প্রতিবাদেই কারখানার মূল প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।
শনিবার আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি সুবীর রায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কারখানার প্রবেশপথ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন। পুলিশ আন্দোলন তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা বাধা দেন। এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঘটনাস্থলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে পুলিশ কারখানার দুটি গেট খুলে দিলেও আন্দোলনকারীরা ফের গেটের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে প্রশাসন অযথা বলপ্রয়োগ করে দমনের চেষ্টা করেছে। শ্রমিকদের দাবি, সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত ছিল।
আন্দোলনকারীদের সমর্থনে বিজেপির দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি বুদ্ধদেব মণ্ডল বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলি সম্পূর্ণ ন্যায্য। তাই আমরা তাঁদের পাশে রয়েছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কারখানা কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করা।
ঘটনার পর কারখানা চত্বরজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানার সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা