আলিপুরদুয়ারে অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের বাড়িতে পুলিশ
আলিপুরদুয়ার, ৪ জুলাই (হি.স.): ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশের বিষয়টি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু ছিল। নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—সকলেই এই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নি
আলিপুরদুয়ারে অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের বাড়িতে পুলিশ


আলিপুরদুয়ার, ৪ জুলাই (হি.স.): ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশের বিষয়টি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু ছিল। নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—সকলেই এই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর কথা বলেছিলেন। রাজ্যে সরকার গঠনের পর এবার সেই দিশায় তৎপরতা বাড়াতে দেখা যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষিতেই আলিপুরদুয়ার জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। গত এক সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অনুপ্রবেশকারীর হদিস মেলেনি।

পুলিশ আধিকারিকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব। এর পাশাপাশি এলাকায় পুলিশের সূত্রদেরও সক্রিয় করা হয়েছে, যারা যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধির খবর থানায় পৌঁছাচ্ছেন।

আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাহু জানান, “পুলিশ সমস্ত ডিলিটেড ভোটারের বাড়ি যাচ্ছে না। শুধুমাত্র সেইসব লোকেদের সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে, যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাননি।”

উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে এই এসআইআর প্রক্রিয়া একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে রাজনৈতিক দলগুলি আন্দোলনও করেছিল। আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রায় ৮০ হাজার ভোটারের নাম তদন্তের আওতায় ছিল, যার মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার নাম বাতিল করা হয়। এদের মধ্যে অনেকেই পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন।

জেলা পুলিশ থানা স্তরে এই ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের তালিকা পাঠিয়েছে এবং সেই ভিত্তিতেই তদন্ত চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আপিল করেননি, তাঁদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের নথিপত্র এবং নাম বাদ যাওয়ার কারণগুলিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, যদি কোনো সন্দেহভাজন বা অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান মেলে, তবে তাঁকে কালচিনি ব্লকের মেন্দাবাড়ি স্থিত হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হবে, যেখানে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই সেন্টারে ইতিমধ্যেই অন্যান্য জেলা থেকে নিয়ে আসা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande