ড্রাগস পাচারে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’-এর প্রভাব, বড় চক্র ভাঙতে সময় লাগবে : আইজি ইপ্পার মানচক
আগরতলা, ৪ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরায় মাদক পাচার রোধে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালালেও আন্তর্জাতিক চক্রের কারণে এই লড়াই জটিল হয়ে উঠেছে। মাদক পাচারের সঙ্গে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক জড়িত থাকায় বড় মাথাদের আইনের আওতায় আনতে কিছুটা সময়
পুলিশের আইজি


আগরতলা, ৪ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরায় মাদক পাচার রোধে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালালেও আন্তর্জাতিক চক্রের কারণে এই লড়াই জটিল হয়ে উঠেছে। মাদক পাচারের সঙ্গে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক জড়িত থাকায় বড় মাথাদের আইনের আওতায় আনতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা শাখার আইজি ইপ্পার মানচক। তবে জনগণ, সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলের সহযোগিতায় যেভাবে ত্রিপুরা থেকে উগ্রপন্থা কার্যত নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে, ঠিক একইভাবে মাদক পাচারও নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার পশ্চিম আগরতলা থানার পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইজি বলেন, মাদক পাচার কেবল ত্রিপুরার সমস্যা নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক চক্রের অংশ। মায়ানমার, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও চীনকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’-এর প্রভাব এই অঞ্চলেও পড়ছে। ফলে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির নাম পুলিশের হাতে এসেছে। সেই সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে কোনও তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বড় চক্রের মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে কিছুটা সময় লাগলেও তদন্ত সঠিক দিকেই এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

আইজি আরও বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও রাজ্য পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে। রাজ্যবাসীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে এই লড়াই আরও ফলপ্রসূ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিন পশ্চিম আগরতলা থানায় আইজি ইপ্পার মানচক থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা এবং চলমান তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা, অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিদর্শন শেষে আইজি জানান, নতুন অপরাধ দমন আইন কার্যকর হওয়ার পর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় একাধিক পরিবর্তন এসেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল, অভিযোগ দ্রুত নথিভুক্তকরণ, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশ আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশিকা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতেই তিনি বিভিন্ন থানা পরিদর্শন করছেন।

তিনি বলেন, নতুন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত হলে অপরাধ তদন্তের গতি বাড়বে এবং বিচার প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর হবে। রাজ্যজুড়ে থানাগুলির কাজের মান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande