ঝাড়খণ্ড সীমান্তে কানাইসর পাহাড়ে দুই দিনব্যাপী পাহাড় পুজো ও মেলা, তিন রাজ্যের হাজারো মানুষের সমাগম
ঝাড়গ্রাম, ৫ জুলাই (হি.স.) : ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ঐতিহ্যবাহী কানাইসর পাহাড়ে শনি ও রবিবার দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হল শতাব্দীপ্রাচীন পাহাড় পুজো ও মেলা। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা
ঝাড়খণ্ড সীমান্তে কানাইসর পাহাড়ে দুই দিনব্যাপী পাহাড় পুজো ও মেলা, তিন রাজ্যের হাজারো মানুষের সমাগম


ঝাড়গ্রাম, ৫ জুলাই (হি.স.) : ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ঐতিহ্যবাহী কানাইসর পাহাড়ে শনি ও রবিবার দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হল শতাব্দীপ্রাচীন পাহাড় পুজো ও মেলা। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা পাহাড় এলাকা। ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি ব্লক এবং ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার চাকুলিয়া সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এই ঐতিহ্যবাহী লোকউৎসবের আয়োজন করা হয়।

আষাঢ় মাসের তৃতীয় শনিবার ভোর থেকেই ভক্তরা কানাইসর পাহাড়ে উঠে ভগবান কানাইয়েশ্বরের পুজো দেন। পোড়ামাটির হাতি-ঘোড়া, সিঁদুর, নৈবেদ্য-সহ বিভিন্ন উপাচার নিবেদন করে বহু মানুষ মানত পূরণ করেন। পাহাড়ের পাদদেশ এবং শীর্ষের সমতল এলাকায় বসে বিশাল মেলা। তেলেভাজা, জিলিপি, বাদাম, আম, কাঁঠাল, মনোহারি সামগ্রী-সহ নানা ধরনের দোকানে দিনভর ছিল উপচে পড়া ভিড়।

এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এখানে ব্রাহ্মণ পুরোহিত নন, বংশানুক্রমে স্থানীয় মাল সম্প্রদায়ের ‘লায়া’ বা ‘দেহুরী’রাই সমস্ত ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করেন। বহু প্রজন্ম ধরে এই প্রথা আজও সমানভাবে পালন হয়ে আসছে।

রবিবার আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উৎসব নতুন মাত্রা পায়। বিভিন্ন গ্রাম থেকে আদিবাসী যুবক-যুবতীরা মেলায় যোগ দেন। মাদল, বাঁশি ও সাঁওতালি গানের তালে জমে ওঠে লোকউৎসবের আবহ। প্রাচীন রীতি মেনে ছাগল ও মোরগ বলির পর সেখানেই প্রসাদ রান্না ও ভোজনের প্রথাও পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু।

লোকসংস্কৃতি গবেষক বিধান দেবনাথ বলেন, কানাইসর পাহাড় পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, প্রকৃতি উপাসনা, কৃষিভিত্তিক জীবন, লোকবিশ্বাস এবং পাহাড়-অরণ্যকেন্দ্রিক সংস্কৃতির এক অনন্য ঐতিহ্য। বহু বছর ধরে এই উৎসব পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এবং আজও সেই ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande