
খড়গপুর, ৫ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত স্তরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত তথা গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রবিবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত স্তরে যে ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, তা অন্য কোনও রাজ্যে দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান-সহ এর সঙ্গে জড়িত অনেকেই অফিসে আসছেন না, যার ফলে প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যাগুলো ঠিক কোথায় এবং কেন এগুলোর উদ্ভব হয়েছে, তা চিহ্নিত করতে আমরা বিস্তারিত পর্যালোচনা করছি। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে যথাযথ পরিবর্তন আনা হবে।
দিলীপ ঘোষ এদিন আরও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের শাসনকালে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্ত চলছে। যার কাছেই প্রমাণ আছে, তিনি যেন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। দোষী সাব্যস্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, রোহিঙ্গা-সহ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এখান থেকে বিতাড়িত করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। যারা স্বেচ্ছায় চলে যাবে না, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিতাড়িত করা হবে। এ ধরনের মানুষকে আশ্রয় দেওয়া বা প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা এখানে নেই। তারা এ দেশের নাগরিক নয়; আর এখানে অবস্থানকালে যদি তারা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কোনও কাজ করে, তবে তা আমরা বরদাস্ত করব না।”
ডায়মন্ড হারবার মডেল প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “ডায়মন্ড হারবার মডেলটি ছিল একটি সমান্তরাল ব্যবস্থা, যা সংবিধান ও আইনের আওতার বাইরে পরিচালিত হতো। এতে কোটি কোটি টাকার অব্যবস্থাপনা হয়েছে। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা উচিত এবং এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।” চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এত বছর অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, অথচ এখন তিনি দাবি করছেন, বাজেট কীভাবে তৈরি হতো, তা তিনি জানতেন না। তাহলে তিনি সেখানে কী করছিলেন? তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই কি বাজেট তৈরি করা হচ্ছিল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেছিলেন তিনি ট্রেডমিলে হাঁটতে হাঁটতে বাজেট তৈরি করতেন। বাজেট কি এভাবেই তৈরি হয়? এটা তো চরম হাস্যকর ব্যাপার। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শোচনীয় আর্থিক অবস্থার কারণ হলো এ ধরনের শাসনব্যবস্থা।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ