
রায়পুর/বলরামপুর, ৫ জুলাই (হি.স.) : ছত্তিশগড়ের উত্তরাঞ্চলের বলরামপুর জেলায় দুর্বল বর্ষার জেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধান, মকাই-সহ খরিফ মরসুমের বিভিন্ন ফসলের বপন ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর বর্ষার অগ্রগতি মন্থর হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণত জুনের শেষ সপ্তাহ থেকেই জেলায় টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং সেই সময়ই ধান, মকাই ও বিভিন্ন সবজির চাষ জোরকদমে শুরু করেন কৃষকরা। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা তৈরি হয়নি। ফলে অনেক কৃষক এখনও বীজ বপন শুরু করতে পারেননি।
বলরামপুর জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। খরিফ মরসুমে এখানে মূলত ধানের চাষ হলেও মকাই এবং বিভিন্ন ধরনের সবজিও ব্যাপক হারে উৎপাদিত হয়। এই ফসলগুলির প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখনও শুকনো পড়ে রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রাথমিক বৃষ্টির উপর ভরসা করে অনেকেই জমি প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী বৃষ্টি না হওয়ায় বপনের কাজ আটকে রয়েছে। ধানের চারা তৈরির উপযুক্ত সময়ও প্রায় শেষের পথে। অন্যদিকে সবজি চাষিদের অতিরিক্ত সেচের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচও বাড়ছে।
গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে বপনে আরও দেরি হবে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ফসল উৎপাদনের উপর। এতে কৃষকদের আয়ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, খরিফ ফসলের জন্য জুলাই মাসের প্রথম পাক্ষিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে ভালো বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তবে বর্ষার গতি না বাড়লে ভবিষ্যতে খরার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
কৃষকদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বর্ষা সক্রিয় হবে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ফলে বপনের কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য