মহর্ষি নারদের সততা, প্রজ্ঞা ও রাষ্ট্রধর্ম থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত এখনকার সাংবাদিকদের : রাজ্যপাল আর. এন. রবি
কলকাতা, ৫ জুলাই (হি.স.): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচার বিভাগ বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্র (দক্ষিণবঙ্গ)-র উদ্যোগে রবিবার আয়োজিত ''নারদ সম্মান-২০২৬'' অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতার ভূমিকা, রাষ্ট্রধর্ম, সততা এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়
মহর্ষি নারদের সততা, প্রজ্ঞা ও রাষ্ট্রধর্ম থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত এখনকার সাংবাদিকদের : রাজ্যপাল আর. এন. রবি


মহর্ষি নারদের সততা, প্রজ্ঞা ও রাষ্ট্রধর্ম থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত এখনকার সাংবাদিকদের : রাজ্যপাল আর. এন. রবি


কলকাতা, ৫ জুলাই (হি.স.): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচার বিভাগ বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্র (দক্ষিণবঙ্গ)-র উদ্যোগে রবিবার আয়োজিত 'নারদ সম্মান-২০২৬' অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতার ভূমিকা, রাষ্ট্রধর্ম, সততা এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর. এন. রবি। এই উপলক্ষ্যে এদিন ১৭ জন সাংবাদিককে তাঁদের সাহসী, জাতীয়তাবাদী এবং মূল্যবোধ-ভিত্তিক সাংবাদিকতার জন্য 'নারদ সম্মান-২০২৬'-এ সম্মানিত করা হয়।

এদিন রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যে জানান, মহর্ষি নারদকে বিশ্বের প্রথম সংবাদদাতা মনে করা হয়। তিনি বলেন, মহর্ষি নারদ কেবল সংবাদের বাহক ছিলেন না, বরং সত্য, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনকল্যাণের ওপর ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সংবাদের প্রতীক ছিলেন। আজকের সাংবাদিকদের জন্য তাঁর জীবন অনুপ্রেরণার উৎস| কারণ তিনি সর্বদা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঠিক সময়ে সমাজের সামনে সত্য তুলে ধরতেন। রাজ্যপাল বলেন, সাংবাদিকতা কেবল ঘটনা উপস্থাপিত করার মাধ্যম নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও বটে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অর্থ কেবল নির্ভীকভাবে কথা বলা নয়, বরং সত্যকে পূর্ণ বিচক্ষণতা, সংবেদনশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে উপস্থাপন করা। সাংবাদিকদের এটা বোঝা উচিত, কোন তথ্যটি কোন সময়ে, কোন প্রসঙ্গে এবং কীভাবে সমাজের সামনে উপস্থাপন করা উচিত| যাতে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং দেশের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার একমাত্র পরিচয় শুধুমাত্র সাহস হতে পারে না। যদি সাংবাদিকতায় বিবেক, নৈতিকতা, সত্যের প্রতি অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা না থাকে, তবে তার উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে যাবে। সাংবাদিকদের তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে এমন সাংবাদিকতা করা উচিত যা সমাজে বিশ্বাস ও আস্থা গড়ে তোলে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।

রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের আগে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতকে ততটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হতো না, কিন্তু আজ বিশ্বের বড় বড় সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং শক্তিশালী দেশগুলির মধ্যে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছে। জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে পাকিস্তানের মতো দেশগুলি ভারতকে ক্রমাগত চোখ রাঙাতো, কিন্তু এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর ভারত বালাকোটে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশ নিজের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। তিনি বলেন, আজ ভারতের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী হয়েছে। রাজ্যপাল বলেন, ভারতে দারিদ্র্যের সূচক-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। করোনা মহামারীর কঠিন সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের আন্তর্জাতিক সংকট, বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মতো বিষয়গুলির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত প্রতিটি চ্যালেঞ্জ ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্বের মাধ্যমে মোকাবিলা করেছে। এটাই শক্তিশালী নেতৃত্বের পরিচয় এবং এই কারণেই দেশ প্রতিনিয়ত অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরাও সাংবাদিকতায় নৈতিক মূল্যবোধ, সততা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। রাজ্যপাল বলেন, পরিবর্তনশীল সময়ে সাংবাদিকতা কেবল তথ্য প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের প্রতি নিজের দায়িত্বগুলিও পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করুক।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande