
আগরতলা, ৪ জুলাই (হি.স.) : জাতীয় চিকিৎসক দিবস উপলক্ষ্যে আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বলেন, সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের দক্ষতা, সততা, নৈতিকতা ও জীবনদর্শনকে অনুসরণ করে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলেই সমাজে সম্মান ও সুনাম অর্জন করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সার্কুলার বহু বছর আগে জারি হলেও তা কার্যকর হয়নি। জনগণের স্বার্থে স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জিবিপি হাসপাতাল ও আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা ও তাদের মতামতের ভিত্তিতেই গ্রহণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে টেলি কনসালটেন্সির ব্যবহার আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এতে রোগীদের সময় ও চিকিৎসা ব্যয় উভয়ই কমবে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং স্বল্প ব্যয়ে সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে রেফারেল রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজধানী আগরতলার পাশাপাশি জেলা ও মহকুমা স্তরেও আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে রাজ্যে লিভার ও হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার বাস্তবায়নে ত্রিপুরা শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে। তিনি ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের জীবন ও কর্মের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তিনি যেমন একজন দক্ষ চিকিৎসক ছিলেন, তেমনি একজন সফল প্রশাসকও ছিলেন। তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের অনুপ্রাণিত করবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নতুন, সুস্থ ও উন্নত ত্রিপুরা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসককে সংবর্ধনা জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ৭ জন চিকিৎসককে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ