
ঘাটাল, ৬ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার মরশুমে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বহুপ্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে রবিবার ঘাটাল টাউন হলে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস। বৈঠক শেষে তিনি মাস্টার প্ল্যানের আওতাধীন চলমান কাজগুলিও খতিয়ে দেখেন।
সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে শিলাবতী ও ঝুমি নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। ঝুমি নদীর ওপর নির্মিত বেশ কয়েকটি অস্থায়ী সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
বৈঠকে বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নৌকার উপযোগিতা, আগাম জেনারেটরের ব্যবস্থা, ত্রাণ সামগ্রী এবং শুকনো খাবার পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই সঙ্গে অসুস্থ ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং সর্পদংশনের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য পুলিশ ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-র বিশেষ উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস জানান, পূর্বের পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করে একটি নতুন ডিটেলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করা হয়েছে। বর্ষা মরশুম শেষ হওয়ার পর মাস্টার প্ল্যানের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হবে এবং আগামী চার বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা শেষ করা হবে।
বৈঠকের পর মন্ত্রী ঘাটালের কৃষ্ণনগর এলাকায় মাস্টার প্ল্যানের অধীনে নির্মাণাধীন পাম্প হাউসটি পরিদর্শন করেন।
উক্ত বৈঠকে সেচ দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ সিনহা, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, ঘাটালের মহকুমা শাসক এবং বিভিন্ন ব্লকের প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এবার ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি