কামারহাটি পুরসভা নিয়ে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট, 'দখলের রাজনীতি'কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না: শমীক ভট্টাচার্য
কলকাতা, ৬ জুলাই (হি. স.): কামারহাটি পুরসভা বিজেপির নিয়ন্ত্রণে আসার জল্পনার মধ্যে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সোমবার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিজেপি কোনোভাবেই দখলের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। একই সঙ্গে এই পুরো ঘটনার ওপ
শমীক ভট্টাচার্য


কলকাতা, ৬ জুলাই (হি. স.): কামারহাটি পুরসভা বিজেপির নিয়ন্ত্রণে আসার জল্পনার মধ্যে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সোমবার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিজেপি কোনোভাবেই দখলের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। একই সঙ্গে এই পুরো ঘটনার ওপর একটি বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করেছেন তিনি।

ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মুরলীধর সেন লেনের দলীয় সদর দফতরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, কোনো ব্যক্তি নিজেকে নিজে বিজেপির কাউন্সিলর ঘোষণা করে দেবে আর দল তা মেনে নেবে, এমনটা হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, দলের অনুমতি এবং আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো ব্যক্তি বিজেপির নাম করে রাজনৈতিক পরিচয় দাবি করতে পারেন না।

উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর একাধিক পুরসভায় প্রশাসনিক রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। এই ক্রমেই গত ১২ জুন কামারহাটি পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান গোপাল সাহা চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর— দুই পদ থেকেই ইস্তফা দেন। এরপর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দীপাংশু ঘোষাল, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মী বিশ্বাস এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামল চক্রবর্তীও কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেন।

এরই মাঝে বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বড় ভাই তথা নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নাম চেয়ারম্যান পদের জন্য সামনে আসে। গত শুক্রবার আয়োজিত বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত ২৭ জন কাউন্সিলরের সর্বসম্মত সমর্থনে সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদেরও সমর্থন পান। এর পরেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয় যে, কামারহাটি পুরসভা এবার বিজেপির নিয়ন্ত্রণে চলে গেল।

তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই দাবি খরিজ করে দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের প্রচার কীভাবে শুরু হলো এবং এর পেছনে দলের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের কোনো নেতা, বিধায়ক বা মন্ত্রী সংগঠনের অনুমোদন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতে পারেন না।

বিজেপি নেতৃত্বের এই স্পষ্ট অবস্থানের পর কামারহাটি পুরসভাকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা রাজনৈতিক জল্পনা এক নতুন মোড় নিল। এখন সকলের নজর রাজ্য সভাপতির চাওয়া তদন্ত রিপোর্ট এবং এই বিষয়ে দলের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই আটকে রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande