তোলাবাজি না দেওয়ায় লজিস্টিকস কোম্পানির ম্যানেজারকে প্রাণনাশের চেষ্টা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
কলকাতা, ৬ জুলাই (হি. স.): কলকাতার কাশীপুর এলাকায় একটি লজিস্টিকস কোম্পানির ম্যানেজারের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনার পর ব্যবসায়ী মহলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কোম্পানির মালিকের অভিযোগ, বেশ কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজ
ক্রাইম


কলকাতা, ৬ জুলাই (হি. স.): কলকাতার কাশীপুর এলাকায় একটি লজিস্টিকস কোম্পানির ম্যানেজারের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনার পর ব্যবসায়ী মহলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কোম্পানির মালিকের অভিযোগ, বেশ কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি করছিল এবং তা দিতে অস্বীকার করায় এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা মেলেনি।

তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা পুরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কাশীপুর এলাকায় 'রোহিত লজিস্টিকস' কোম্পানি তাদের গুদাম থেকে পণ্য লোডিংয়ের কাজ করছিল। কোম্পানির মালিক রোহিত সিংয়ের অভিযোগ, গত কিছু সময় ধরে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা দাবি করছিল এবং কর্মচারীদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল।

রোহিত সিং জানান, শনিবার গভীর রাতে কোম্পানির ম্যানেজার আকাশ কুমার মিশ্র গুদাম থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় রাস্তায় কয়েকজন দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য আর. জি. কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোম্পানির দাবি, তাঁর শরীরে ৯৬টি সেলাই পড়েছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

কোম্পানির মালিকের দাবি, এই ঘটনায় এ যাবৎ চারটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, এই হামলায় প্রায় ২০ জন জড়িত ছিল এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের নামও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, সমস্ত অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা ও অন্যান্য তথ্য তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে। আপাতত চিতপুর থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

রাজ্য সরকার যখন সিন্ডিকেট ও বেআইনি তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা সামনে এল। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিল। তবে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পুলিশ তদন্ত শেষ করার পরেই আসল সত্য সামনে আসবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande