ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চিন্তাধারা আজ আধুনিক ভারতকে দিশা দেখাচ্ছে: মোদী
নয়াদিল্লি, ৬ জুলাই (হি. স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার বলেছেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে ভাবাদর্শের বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ আধুনিক ভারতকে দিশা দেখানোর ক্ষেত্রে এক বড় ভূমিকা পালন করছে। ভারতীয় জনসঙ্ঘের সেই আদর্শই আজ ভারতীয় জনতা পার্
নরেন্দ্র মোদী


নয়াদিল্লি, ৬ জুলাই (হি. স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার বলেছেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে ভাবাদর্শের বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ আধুনিক ভারতকে দিশা দেখানোর ক্ষেত্রে এক বড় ভূমিকা পালন করছে। ভারতীয় জনসঙ্ঘের সেই আদর্শই আজ ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রূপে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে জনসেবা করে চলেছে। মোদী বলেন, তাঁর সরকার অনুচ্ছেদ ৩৭০ ধারা বিলোপ করে ড. মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছে এবং তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী দুই বছর ধরে জাতীয় উৎসব হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে তিনি বর্তমানে অন্য জায়গায় সফরে রয়েছেন, তবে প্রযুক্তির সাহায্যে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছেন। ড. মুখোপাধ্যায়কে ভারতের অখণ্ডতার প্রতি উৎসর্গীকৃত এক মহান দেশপ্রেমিক ও যুগদ্রষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মোদী বলেন, যখন 'রাষ্ট্র প্রথম' ভাবাবেগের সরকার থাকে, তখন রাষ্ট্রনায়করা যোগ্য সম্মান পান এবং তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও প্রয়াস করা হয়। তিনি জানান, কেন্দ্র সরকার ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীকে দুই বছরের একটি জাতীয় উৎসব হিসেবে পালন করছে, যা গত বছরের ৬ জুলাই শুরু হয়েছে এবং আগামী বছরের ৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। জমকালো এই আয়োজনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি উদযাপিত 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' এবং এই অনুষ্ঠানটি রাজ্যের ঐতিহ্যের প্রতি সম্মানের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. মুখোপাধ্যায়ের জীবন একটি একক চিন্তাধারা থেকে গণআন্দোলনে রূপান্তরের এক অনুপ্রেরণাদায়ী যাত্রা। তিনি এমন এক সময়ে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যখন দেশে কংগ্রেসের রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল এবং কোনো বিকল্প মতাদর্শের জন্য কোনো স্থান দেখা যাচ্ছিল না। তিনি আরও বলেন, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা কেবল একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং গণতন্ত্রে আদর্শগত বৈচিত্র্য, জাতীয় চিন্তাভাবনা এবং অংশীদারিত্বের প্রতি তাঁর অটল বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ কর্মীর তপস্যা, ত্যাগ ও উৎসর্গের ফলেই জনসঙ্ঘের চিন্তাধারা টিকে রয়েছে এবং আজ সেই আদর্শই ভারতীয় জনতা পার্টি হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়ে দেশের সেবা করছে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে যখনই বিজেপির যাত্রার ইতিহাস লেখা হবে, তখন ড. মুখোপাধ্যায়ের চিন্তাধারা, সাহস ও দূরদর্শিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হবে।

মোদী বলেন, সংসদে ড. মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন যে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তির ওপরই এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত স্থাপন করা সম্ভব এবং তিনি জীবনভর এই নীতি মেনে চলেছেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সমগ্র বাংলাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ড. মুখোপাধ্যায় পাথরের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে এটি সুনিশ্চিত করেছিলেন যেন পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই থেকে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. মুখোপাধ্যায় মন্ত্র দিয়েছিলেন— এক দেশে দুই বিধান, দুই প্রধান এবং দুই নিশান চলবে না। এটি কেবল একটি স্লোগান ছিল না, বরং সমান অধিকার, অভিন্ন সংবিধান এবং অভিন্ন জাতীয় চেতনার আহ্বান ছিল। ড. মুখোপাধ্যায় তাঁর আদর্শের জন্য লড়াই করেছেন, কারাবরণ করেছেন এবং কাশ্মীরের জন্য সর্বোচ্চ বলিদানের নজির রেখেছেন। তাঁর সরকার ৩৭০ ধারার বিশেষ ব্যবস্থা বাতিল করে ড. মুখোপাধ্যায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে।

তিনি বলেন, 'এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত'-এর ধারণা ড. মুখোপাধ্যায়ের জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিরই সম্প্রসারণ, যেখানে উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই এবং পুরো দেশ এক সংবিধান, এক জাতীয় চেতনা ও যৌথ ভবিষ্যতের সংকল্পে বাঁধা। আজ সমগ্র দেশে সংবিধান সমানভাবে কার্যকর এবং এটি ড. মুখোপাধ্যায়েরই প্রেরণার ফল।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য (ভিসি) হওয়া ড. মুখোপাধ্যায় শিক্ষাকে রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যম হিসেবে মনে করতেন। তিনি মাতৃভাষায় শিক্ষা এবং ভারতীয় ভাষার সম্মানের ওপর জোর দিয়েছিলেন। মোদী বলেন, নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির অধীনে স্থানীয় ভাষাগুলোতে শিক্ষাদানের প্রসার ঘটিয়ে তাঁর সরকার ড. মুখোপাধ্যায়ের এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করছে।

তিনি বলেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে ড. মুখোপাধ্যায় শিল্পোন্নয়নের এক মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস, সিন্ধ্রি সার কারখানা, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পেছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর কাছে শিল্প, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারগুলো কেবল কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং তা ছিল রাষ্ট্র গঠনের সাধনাকেন্দ্র।

প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যেভাবে এক ভারতের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই সকলের উচিত 'শ্রেষ্ঠ ভারত' ও 'উন্নত ভারত' গঠনের জন্য কাজ করা। আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি ড. মুখোপাধ্যায়ের সেই বার্তার উল্লেখ করেন— যে কাজই শুরু করো না কেন, তা পূর্ণ গম্ভীরতা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের সঙ্গে সম্পন্ন করো।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande