
কলকাতা, ৬ জুলাই (হি. স.): আকাশ মেঘলা ও বৃষ্টি বিঘ্নিত পরিবেশের মধ্যেই অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো খুঁটি পুজো। এর মাধ্যমেই ৯১তম বর্ষে পদার্পণ করল উত্তর কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পুজো কমিটি চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি। ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে এবার তাদের পুজোর থিম ভাবনা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ‘অকাল বোধন’। রামায়ণের সেই ঐতিহাসিক পর্ব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই থিম নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে রাবণের বিরুদ্ধে লঙ্কা জয়ের উদ্দেশ্যে যুদ্ধের আগে শ্রীরামচন্দ্র অকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন।
এদিন শুদ্ধ বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে খুঁটি পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী, সমিতির সভাপতি প্রদীপকুমার দে এবং সম্পাদক প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই বিশেষ ক্ষণে পুজো কমিটি জুণা আখড়ার পূজ্য গিরিজি মহারাজের আশিস ধন্য হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই বারের পুজোর এক বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উৎসর্গ করে একটি বিশেষ শিল্প-ইনস্টলেশন তৈরি করা হচ্ছে। পুজো সমিতির দাবি, বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গভীর অনুরাগ এবং তাঁর প্রকাশ্য ভক্তিভাব থেকেই মূলত এই শিল্পভাবনার অনুপ্রেরণা মিলেছে।
সমিতির সভাপতি প্রদীপকুমার দে জানান, ৯১ বছরে পা রেখে তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো ভক্তি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সংহতির বার্তা সকলের মাঝে পৌঁছে দেওয়া। অন্যদিকে সম্পাদক প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘অকাল বোধন’ কেবল একটি সাধারণ থিম নয়, এটি ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সাহস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের এক অনন্য উদযাপন।
এই খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়েই এ বারের শারদোৎসবের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল। এককথায় বলা চলে— বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে যেন ঢাকের কাঠি পড়ে গেল।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত