
আগরতলা, ৬ জুলাই (হি.স.) : দীর্ঘদিনের নিয়মিতকরণের দাবিতে ফের সরব হলেন ত্রিপুরার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা। সোমবার সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের অধিকর্তার কার্যালয়ে ডেপুটেশন দিতে এসে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। পরে কার্যালয়ের ভেতরেই বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকার পরিবেশে ধর্নায় বসে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা এদিন একত্রিত হয়ে দাবি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা অত্যন্ত কম সাম্মানিককের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এখনও তাঁদের চাকরি নিয়মিত করা হয়নি। ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছিল, সরকার গঠিত হলে বিভিন্ন দফতরের অনিয়মিত কর্মীদের পর্যায়ক্রমে নিয়মিত করা হবে। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় নয় বছর অতিক্রান্ত হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত জনৈক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা এখন আর সরকার মনে রাখছে না। তাঁদের দাবি, নিয়মিতকরণের পরিবর্তে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের ওপর ক্রমাগত নতুন নতুন দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বিভিন্ন সময়ে কাজের পরিধি বাড়ানোর কথা বললেও, সেই অনুপাতে কোনও সুযোগ-সুবিধা বা চাকরির নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, কাজে যোগ দিতে মাত্র পাঁচ মিনিট দেরি হলেও শোকজ করা হচ্ছে। সামান্য কারণে প্রশাসনিক চাপ ও মানসিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। অথচ বছরের পর বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেও নিয়মিতকরণ, বেতন কাঠামোর উন্নয়ন কিংবা অন্যান্য পরিষেবাগত সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত রয়েছেন।
সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়ের ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, একাধিকবার দাবি জানানো হলেও মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথে নামতে হয়েছে।
এদিনের কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা অংশ নেন। তাঁরা অবিলম্বে নিয়মিতকরণ, উপযুক্ত বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি, সরকার দ্রুত তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ