পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতি ভাঙার ঘোষণায় অশোধিত তেলের দামে বড় উল্লম্ফন, ভারতের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা
নয়াদিল্লি, ৮ জুলাই (হি.স.): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দামে ফের তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একটি বাণিজ্য
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতি ভাঙার ঘোষণায় অশোধিত তেলের দামে বড় উল্লম্ফন, ভারতের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা


নয়াদিল্লি, ৮ জুলাই (হি.স.): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দামে ফের তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এর জেরে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) — উভয় বেঞ্চমার্ক তেলের দামেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।

বুধবার লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২.০২ ডলার বেড়ে ৭৬.১৮ ডলারে পৌঁছয়। পরে কিছুটা নেমে ৭৫.৫২ ডলারে এলেও ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার। ভারতীয় সময় দুপুর প্রায় ২টোর সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৬৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯.০৮ ডলারে পৌঁছে যায়। পরে সামান্য সংশোধন হলেও সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তা ৩.০৯ ডলার বা ৪.১৭ শতাংশ বেড়ে ৭৭.২৫ ডলার প্রতি ব্যারেলে লেনদেন করছিল।

একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও শুরুতেই ১.৯৮ ডলার বা ২.৮১ শতাংশ বেড়ে ৭২.৪২ ডলার প্রতি ব্যারেলে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা প্রায় ৬.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫.৩০ ডলারে পৌঁছে যায়। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭৩.৪০ ডলার, যা আগের তুলনায় ৪.২১ শতাংশ বেশি।

স্পট মার্কেটের পাশাপাশি ফিউচার বাজারেও অশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আগস্ট সরবরাহের জন্য ডব্লিউটিআই ক্রুডের ফিউচার ব্যারেল প্রতি ৭১.৮৭ ডলারে এবং সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার ৭৫.৫৩ ডলারে পৌঁছেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে একসময় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম আবার কমতে শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

টিএনভি ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর সিইও তারকেশ্বর নাথ বৈষ্ণবের মতে, তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি (কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট ) এবং আর্থিক ঘাটতি (ফিসকাল ডেফিসিট )-র ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি রুপির ওপর চাপ বাড়বে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে সরকারকে ভর্তুকি, সুদের হার এবং ডলার-রুপির বিনিময় হার নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এর প্রভাব শেয়ার বাজারেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande