বাংলাদেশে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধস, রোহিঙ্গা শিবিরের মাদ্রাসায় মাটি চাপা পড়ে ৮ জনের মৃত্যু
ঢাকা, ৯ জুলাই (হি.স.): দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় প্রবল বর্ষণের জেরে পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসার উপর ধস নেমে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সাত জন ছাত্রী ও একজন শিক্ষক রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। বুধবার দুপুরে উ
বাংলাদেশে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধস, রোহিঙ্গা শিবিরের মাদ্রাসায় মাটি চাপা পড়ে ৮ জনের মৃত্যু


ঢাকা, ৯ জুলাই (হি.স.): দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় প্রবল বর্ষণের জেরে পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসার উপর ধস নেমে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সাত জন ছাত্রী ও একজন শিক্ষক রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। বুধবার দুপুরে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির-৫-এর এ-৩ ব্লকে অবস্থিত একটি কন্যাদের মাদ্রাসায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে , পাহাড়ের ধস নামায় মাদ্রাসার একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে প্রায় ৪০ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল।

খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে আট জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত পাঁচ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, চার জন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং বাকি চার জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। নিহত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একই পরিবারের দুই বোনও রয়েছে।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক সিরাজ আমিন জানান, মৃতদের মধ্যে চার জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তারা হল— রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) এবং উমাইসা বিবি (১৩)। আহত অসরা বেগম (৯), বেগম জান (১৫) এবং ফারেসা বিবি (১২)-র কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এছাড়া প্রায় ৩০ জন ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষণে কক্সবাজার জেলাজুড়ে বন্যা ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নিচু এলাকায় জল ঢুকে পড়েছে, ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। গত দু'দিনে কক্সবাজারে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামেও। রাঙ্গুনিয়ায় মঙ্গলবার পাহাড়ধসে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। পাঁচলাইশ থানার রহমাননগরে দেওয়াল চাপা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বুধবার সকালে মাটি চাপা পড়ে ১০ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাঁচলাইশের চশমা হিলে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছে ১২ বছরের এক কিশোরী।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চট্টগ্রাম শহরেই ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি সরকারি এবং ১০টি বেসরকারি মালিকানাধীন। এসব পাহাড়ের ঢালে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি পরিবার বসবাস করছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলিকে পাঁচটি নজরদারি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে। মাইকিং করে বাসিন্দাদের অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।

কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলির জন্য অস্থায়ী ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। প্রবল বর্ষণের কারণে গোটা অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। রেললাইন জলের তলায় চলে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথেও ফেরি পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande