
কলকাতা, ১১ আগস্ট (হি.স.): শিক্ষার্থীদের প্রথাগত পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি কর্মজগতের বাস্তবভিত্তিক চাহিদার সঙ্গে সুপরিচিত করতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্কটিশ চার্চ কলেজ। মঙ্গলবার কলেজের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয় ‘ফ্রম অ্যাকাডেমিয়া টু ইন্ডাস্ট্রি, অ্যান অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি ইন্টারফেস’ শীর্ষক এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা। কলেজের ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল এবং ইনস্টিটিউশনস ইনোভেশন কাউন্সিল -এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা, আধুনিক শিল্পক্ষেত্র, গবেষণা, উদ্ভাবন, ইন্টার্নশিপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন দুই বিধায়ক বিজয় ওঝা ও অমিত সামন্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশপের প্রতিনিধি রেভারেন্ড আবির অধিকারী এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি কো-অর্ডিনেটর পীযূষ কান্তি পানিগ্রাহী সহ একাধিক শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পক্ষেত্রের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করার সুযোগ পান প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর ফলে পেশাগত জগতে প্রবেশের পূর্বে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা, কাজের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করেন তাঁরা।
কর্মমুখী শিক্ষার ধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এদিন অনুষ্ঠানে নাইটিঙ্গেল হসপিটাল এবং ডাকব্যাক-এর সঙ্গে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রাতিষ্ঠানিক এই যৌথ উদ্যোগের ফলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, বাস্তবভিত্তিক কর্মসংস্থান, গবেষণা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এ দিনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ মধুমঞ্জরী মণ্ডল বলেন, কেবলমাত্র অ্যাকাডেমিক বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বর্তমান সময়ের উপযোগী দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে শিক্ষার এই সরাসরি যোগাযোগ শিক্ষার্থীদের পেশাগত বিকাশ ও সাফল্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত