রাঁচির ছাত্র আন্দোলনে বিজেপির ‘সমর্থন’, রাহুলকে নিশানা মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর
দিল্লিতে সরব, ঝাড়খণ্ডে নীরব—‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ প্রদেশ বিজেপির
বিজেপির সাংবাদিক সম্মেলন


আগরতলা, ১১ আগস্ট (হি.স.) : দিল্লির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সরব হলেও ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নীরব—এমন অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি। মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থেই একেক জায়গায় একেক ধরনের অবস্থান নিচ্ছেন রাহুল গান্ধী। একইসঙ্গে রাঁচির ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে বিজেপি।

সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য তুলে ধরে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছেন। গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে রাহুল গান্ধী সরব ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন চললেও সেখানে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

সুশান্ত চৌধুরীর বক্তব্য, এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও কংগ্রেস জোটের সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণেই রাঁচির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে রাহুল গান্ধী নীরব রয়েছেন। তাঁর কটাক্ষ, রাহুল গান্ধীর যদি সত্যিই ছাত্রদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে, তাহলে ঝাড়খণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হওয়া উচিত এবং আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারকে চাপ দেওয়া উচিত।

এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক পদক্ষেপ করেছে। পেপার লিক সংক্রান্ত বিষয়েও আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন।

একইসঙ্গে সংসদে বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও সরব হন সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, সংসদে অরাজকতা তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। ‘ঘোলা জলে মাছ ধরার’ রাজনীতি করে বিরোধীরা দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করেন মন্ত্রী।

রাঁচির ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিজেপি ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য দাবির পাশে রয়েছে। ঝাড়খণ্ড সরকারকে অবিলম্বে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দাবি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ধরনের রাজনৈতিক টালবাহানা কাম্য নয়।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধেও নাম না করে আক্রমণ শানান মন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বিরোধীদের এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশবাসীর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে না। মানুষ সবকিছু দেখছেন এবং সময়মতো তার জবাবও দেবেন।

তবে রাঁচির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিজেপির এই অবস্থান নিয়েও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্যের একাংশের মানুষের বক্তব্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের সময় বিজেপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ফলে একই ধরনের ছাত্র আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande