একাধিক প্রজন্মের আত্মত্যাগে প্রাপ্ত স্বাধীনতা, বিকশিত ভারত গড়ার সংকল্প নিন : দত্তাত্রেয় হোসবলে
কলকাতা, ১৫ আগস্ট (হি. স.) : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার কলকাতায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দফতর কেশব ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এদিন সকালে সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে পতাকা উত্তোলন করেন। এই উপলক্ষে সংঘের স্ব
দত্তাত্রেয় হোসবলে কেশব ভবনে


কলকাতা, ১৫ আগস্ট (হি. স.) : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার কলকাতায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দফতর কেশব ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এদিন সকালে সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে পতাকা উত্তোলন করেন। এই উপলক্ষে সংঘের স্বয়ংসেবকেরা সম্মিলিতভাবে 'বন্দে মাতরম' ধ্বনি দেন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে সংঘের পূর্ব অঞ্চলের সঙ্ঘচালক ড. জয়ন্ত রায় চৌধুরী, সহ-সরকার্যবাহ রামদত্ত চক্রবর্তী, পূর্ব অঞ্চলের কার্যবাহ দুর্গাপ্রসাদ সাহু এবং প্রাক্তন আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রধান ড. জিষ্ণু বসু সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক ও স্বয়ংসেবকরা উপস্থিত ছিলেন। রাম মন্দির আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া রাম-শারদ কোঠারি ভাইদের বোন পূর্ণিমা কোঠারির উপস্থিতিও এই কর্মসূচিতে ছিল।

নিজের বক্তব্যে দত্তাত্রেয় হোসবলে স্বাধীনতা দিবসকে কোটি কোটি ভারতীয়র জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার দিন বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শত বছরের পরাধীনতা থেকে দেশকে মুক্ত করতে পূর্ববর্তী প্রজন্ম দীর্ঘ সংগ্রাম ও অগণিত আত্মত্যাগ করেছে। স্বাধীনতা কেবল একটি অর্জন নয়, একে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী রাখা বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব।

হোসবলে বলেন, ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা ও সাংস্কৃতিক বৈভব যেন অক্ষুণ্ন থাকে, তার জন্য প্রতিটি নাগরিককে সংকল্প নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও গৌরব রক্ষার পাশাপাশি জাতি গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্ধারিত 'বিকশিত ভারত'-এর লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত ভারত কেবল প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন নয়, এটি কোটি কোটি ভারতীয়র যৌথ লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই লক্ষ্য অর্জনে সমাজের প্রতিটি বর্গকে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যেতে হবে।

সংঘের সরকার্যবাহ আরও বলেন, বিশ্বমঞ্চে ভারত যেন এক বৈভবশালী ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে উঠে দাঁড়ায় এবং বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে, তার জন্য সকলকে একযোগে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। স্বাধীনতা দিবস দেশের সাফল্যকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সংকল্প নেওয়ারও এক বিশেষ সুযোগ।

বক্তব্যে হোসবলে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর ও দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে শক্তিশালী রাখা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ঋষি অরবিন্দর জয়ন্তীর গুরুত্ব তুলে ধরে দেশ গঠনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে দত্তাত্রেয় হোসবলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং সমস্ত ভারতীয়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতি গঠনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভারতের নীতি সর্বদাই ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর এবং সমগ্র বিশ্বের কল্যাণে দেশের সংকল্পবদ্ধ হওয়াই এই দিনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande