তিরঙ্গা ত্রিপুণ্ডে মহাকাল, ভস্ম আরতিতে শিবভক্তির সঙ্গে দেশভক্তির আবহ
উজ্জ্বয়িনী, ১৫ আগস্ট (হি.স.): স্বাধীনতা দিবসের সকালে অন্য রূপে ধরা দিলেন উজ্জ্বয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরের বাবা মহাকাল। শনিবার ভোরের ভস্ম আরতিতে মহাকালের কপালে কেশরিয়া, সাদা ও সবুজ রঙে সাজানো হল তিরঙ্গা ত্রিপুণ্ড। শিবের আরাধনার সঙ্গে জাতীয় পতাকার রঙ
তিরঙ্গা ত্রিপুণ্ডে মহাকাল, ভস্ম আরতিতে শিবভক্তির সঙ্গে দেশভক্তির আবহ


উজ্জ্বয়িনী, ১৫ আগস্ট (হি.স.): স্বাধীনতা দিবসের সকালে অন্য রূপে ধরা দিলেন উজ্জ্বয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরের বাবা মহাকাল। শনিবার ভোরের ভস্ম আরতিতে মহাকালের কপালে কেশরিয়া, সাদা ও সবুজ রঙে সাজানো হল তিরঙ্গা ত্রিপুণ্ড। শিবের আরাধনার সঙ্গে জাতীয় পতাকার রঙ মিশে তৈরি হল ভক্তি ও দেশাত্মবোধের এক অনন্য আবহ। বিশেষ সাজে মহাকালের দর্শন পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভক্তরা। মুহূর্তে জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর।

ভস্ম আরতির জন্য ভোরেই মন্দিরের দরজা খোলা হয়। নিয়ম মেনে গর্ভগৃহে থাকা দেবদেবীর পুজোর পর শুরু হয় বাবা মহাকালের জলাভিষেক। দুধ, দই, ঘি, শঙ্কর ও ফলের রস দিয়ে তৈরি পঞ্চামৃত দিয়ে অভিষেক ও পুজো হয়। প্রথম ঘণ্টাধ্বনির পর মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে নিবেদন করা হয় হরিওমের জল।

এর পরেই মহাকালের কপালে অর্পণ করা হয় তিরঙ্গা ত্রিপুণ্ড। রুপোর ‘ওঁ’, বিল্বপত্রে সাজানো মুকুট এবং রুদ্রাক্ষের মালায় সাজানো হয় দেবতাকে। ত্রিশূল ও ডমরুর সঙ্গে শেষনাগে অলংকৃত রুপোর মুকুটেও সজ্জিত করা হয় তাঁকে। রুপোর মুন্ডমালা, রুদ্রাক্ষের মালা এবং সুগন্ধি ফুলের বর্ণিল মালায় সম্পূর্ণ হয় বিশেষ শৃঙ্গার। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষের সকালে এই সাজে স্পষ্ট হয়ে ওঠে শিবভক্তির সঙ্গে দেশভক্তির মেলবন্ধন।

ভস্ম আরতির নিয়ম মেনে গণেশ, মা পার্বতী এবং কার্তিকেয়ের পুজো করা হয়। পরে বাবা মহাকালকে ফল ও মিষ্টির ভোগ নিবেদন করা হয়। কর্পূর আরতির পর বিধি মেনে জ্যোতির্লিঙ্গে ভস্ম অর্পণ করা হয় এবং নিবেদন করা হয় নৈবেদ্য। মহা নির্বাণী আখড়ার পক্ষ থেকে মহাকালকে ভস্ম অর্পণ করা হয়।

মন্দিরের প্রাচীন পরম্পরা অনুযায়ী, ভস্ম অর্পণের পর মহাকালের সাকার রূপের দর্শন মেলে। সেই দর্শনের জন্য সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যায় ভক্ত সমাগম হয়। মহাকালের পাশাপাশি নন্দী মহারাজের দর্শন করে নিজেদের মনস্কামনাও নিবেদন করেন তাঁরা।

তেরঙা সাজে মহাকালের দর্শন ঘিরে স্বাধীনতা দিবসের সকাল যেন পেল আলাদা মাত্রা। মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশে মিশে গেল জাতীয় পতাকার তিন রং। ভক্তদের কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হল— ‘জয় শ্রী মহাকাল’।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande