হেরিটেজ হওয়া সত্ত্বেও অবহেলিত স্বাধীনতা সংগ্রামীর বাড়ি
আরামবাগ , আগস্ট (হি.স .): নকুন্ডার মাটিতে স্বাধীনতার গোপন ঘাঁটি, অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সুধীরচন্দ্র ঘোষের ঐতিহাসিক বাড়ি স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু শহরের রাজপথ, বড় বড় সভা কিংবা পরিচিত বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয
হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়া বাড়ি


আরামবাগ , আগস্ট (হি.স .): নকুন্ডার মাটিতে স্বাধীনতার গোপন ঘাঁটি, অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সুধীরচন্দ্র ঘোষের ঐতিহাসিক বাড়ি

স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু শহরের রাজপথ, বড় বড় সভা কিংবা পরিচিত বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু বিস্মৃত অধ্যায়। তেমনই এক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী গোঘাটের নকুন্ডা গ্রামের সুধীরচন্দ্র ঘোষের ঐতিহাসিক বাড়ি। ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সুধীরচন্দ্র ঘোষ।

পরবর্তীতে তাঁর বাড়িই হয়ে ওঠে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একটি গোপন কর্মকেন্দ্র। প্রফুল্লচন্দ্র সেন, বিজয় মোদক, হেমন্ত বসু, অতুল্য ঘোষ-সহ একাধিক জাতীয় নেতার যাতায়াত ছিল এই বাড়িতে। গোপনে ইস্তাহার ও আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজও চলত এখান থেকে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার জন্য সুধীরচন্দ্র ঘোষ মোট ৬ বছর ৪ মাস ব্রিটিশের কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে তাম্রপত্র প্রদান করে। ২০০১ সালে তাঁর বাড়িটি পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

অথচ বর্তমানে ঐতিহাসিক এই বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে ক্রমশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা পীযূষ কান্তি ঘোষ, লাবণ্য পাল, তরুণ কান্তি ঘোষ-সহ এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরকারি উদ্যোগে বাড়িটির সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হোক।

তাঁদের কথায়, এই বাড়ি কেবল একটি পুরনো স্থাপনা নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের জীবন্ত স্মৃতিচিহ্ন। অবহেলায় তা হারিয়ে যাওয়ার আগে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি।

হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA




 

 rajesh pande