
গ্যাংটক, ১৫ আগস্ট (হি. স. ) : দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল সিকিম। শনিবার রাজধানী গ্যাংটকের এসটিএনএম হাসপাতালে রাজ্যের প্রথম অঙ্গ প্রতিস্থাপন কেন্দ্র (অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার) ও পোস্ট-ট্রান্সপ্লান্ট আইসিইউ-র শুভ উদ্বোধন করা হয়। সিকিমের রাজ্যপাল ওমপ্রকাশ মাথুর, মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জি টি ঢুঙ্গেলের উপস্থিতিতে এই নতুন স্বাস্থ্য পরিষেবার সূচনা করেন।
হাসপাতালের ৭ নম্বর লেভেলে অবস্থিত অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্মৃতিফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই দুটি স্বাস্থ্য পরিষেবা সিকিমের জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়।
উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং বলেন, ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে সিকিমে প্রথমবারের মতো কিডনি প্রতিস্থাপন পরিষেবা চালু হওয়া গোটা রাজ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
তিনি জানান, সিকিমের দুই বাসিন্দার কিডনি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার রাজ্যেই প্রথমবার সম্পন্ন হতে চলেছে। এই উদ্যোগকে সফল করতে স্বাস্থ্য দফতর, চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের অভিনন্দন জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০১৯ সাল থেকে সিকিমে স্বাস্থ্য কাঠামোর ধারাবাহিক বিস্তার ঘটেছে। ডায়ালিসিস কেন্দ্র স্থাপন এবং ক্যানসার চিকিৎসার মতো সুপার-স্পেশালিটি পরিষেবা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সিকিমেই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো জটিল চিকিৎসার সুবিধা মেলায় রোগীদের আর অন্য রাজ্যে ছুটতে হবে না।
সিকিমের নাগরিকদের প্রতি রাজ্যের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও বেশি আস্থা রাখার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন যে, বিপিএল পরিবার এবং সিকিম সাবজেক্ট শংসাপত্রধারী বা ডোমিসাইল থাকা নাগরিকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সম্পূর্ণ সুবিধা বিনামূল্যে পাবেন। এছাড়া, 'মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসা সহায়তা যোজনা'-র অধীনে প্রতিস্থাপনের পর ৬ মাস পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সার্জিক্যাল কিটও প্রদান করা হবে।
সিকিমে প্রথম এই কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় কলকাতার আরএন টেগোর হাসপাতালের একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ড. টি এ জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে এই বিশেষজ্ঞ দলটি এসটিএনএম হাসপাতালের নেফ্রোলজিস্ট ড. অভিষেক গৌতম এবং স্থানীয় চিকিৎসা দলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে।
প্রথম দফায় টাশিডিং-এর বাসিন্দা নেচিং লেপচাকে তাঁর স্ত্রী পেম ডিকি লেপচা কিডনি দান করেন। অন্যদিকে, ভুসুকের বাসিন্দা শোভা ছেত্রীকে কিডনি দান করেন দল বাহাদুর ছেত্রী। রাজ্যেই এই পরিষেবা চালু হওয়ায় কিডনি সংক্রান্ত জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি