‘নেত্রদান’-এর বদলে ‘নেত্রদান সংকল্প পক্ষকাল’ বলা অধিক যুক্তিসঙ্গত: ভাইয়াজী জোশী
নাগপুর, ২৫ আগস্ট (হি.স.): জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সুরেশ ওরফে ভাইয়াজী জোশী বলেছেন যে, ‘নেত্রদান’-এর বদলে ‘নেত্র সংকল্প’ বা অন্য কোনও বিকল্প শব্দের কথা ভাবা উচিত। তাঁর মতে, ‘নেত্রদান পক্ষকাল’-এর জায়গায় ‘নেত্র
ভাইয়াজী জোশী


অরবিন্দ মার্ডিকর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন


নাগপুর, ২৫ আগস্ট (হি.স.): জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সুরেশ ওরফে ভাইয়াজী জোশী বলেছেন যে, ‘নেত্রদান’-এর বদলে ‘নেত্র সংকল্প’ বা অন্য কোনও বিকল্প শব্দের কথা ভাবা উচিত। তাঁর মতে, ‘নেত্রদান পক্ষকাল’-এর জায়গায় ‘নেত্রদান সংকল্প পক্ষকাল’ বলা অধিক যুক্তিসঙ্গত হবে।

নাগপুরের মাধব নেত্রালয়ে আয়োজিত 'জাতীয় নেত্রদান পক্ষকাল'-এর সূচনা অনুষ্ঠানে ভাইয়াজী জোশী বলেন, মানুষ তার নিজের উপার্জিত অর্থ, অর্জিত জ্ঞান বা কোনও নিজস্ব সামগ্রী দান করতে পারে। কিন্তু চোখ বা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আমাদের ঈশ্বরের দেওয়া দান। তাই মৃত্যুর পর কোনও ব্যক্তিকে দৃষ্টিশক্তি বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রদান করার প্রক্রিয়াকে 'দান' বলা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন।

এই অনুষ্ঠানে নাগপুর এইমস -এর অধিকর্তা ড. প্রশান্ত জোশী, পিক্স ট্রান্সমিশন লিমিটেডের অধিকর্তা জে. পল, মাধব নেত্রালয়ের সহ-সভাপতি নিখিল মুণ্ডলে, সম্পাদক অবিনাশ অগ্নিহোত্রী, মেজর বাম, ভাউসাহেব দেওরস সেবা ট্রাস্টের সম্পাদক এবং হিন্দুস্থান সমাচারের সভাপতি অরবিন্দ মার্ডিকর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ভাষাগত সংস্কার ও শব্দের সঠিক প্রয়োগ

ভাইয়াজী জোশী বলেন, অনেক সময় প্রচলিত ভাষায় ভুল শব্দের প্রয়োগ দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনও মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলে তাঁকে 'পঙ্গু' বলা উচিত, অথচ চলতি কথায় পঙ্গুত্বমুক্ত মানুষের জন্য ব্যবহৃত 'অপঙ্গ' শব্দটিকে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এমনকি সন্ত তুকারাম মহারাজের অভঙ্গেও উল্লেখ রয়েছে, “জ্যাসি অপঙ্গিতা নাহি। ত্যাসি ধরী জো হৃদয়ীং।” তবুও সাধারণ ব্যবহারে শারীরিক অক্ষম ব্যক্তিদের 'অপঙ্গ' বলা হতো। সেদিক থেকে 'প্রতিবন্ধী' বোঝাতে 'দিব্যাঙ্গ' শব্দটি বিকল্প হিসেবে চালু হওয়াটা স্বাগত জানানোর মতো। ঠিক এই যুক্তিতেই ‘নেত্রদান’ শব্দটির উপরেও পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

তিনি স্পষ্ট করেন, জীবিত অবস্থায় নিজের অর্জিত বস্তু, অর্থ বা বিদ্যা অন্যকে দেওয়াকে 'দান' বলা সঠিক। কিন্তু চোখ বা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আমরা নিজেরা অর্জন করিনি; জন্ম থেকেই ঈশ্বর আমাদের এগুলি দিয়েছেন। তাই কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর পূর্ব ইচ্ছা অনুযায়ী স্বজনেরা যদি তাঁর চোখ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কোনও দুস্থ ও অভাবী মানুষকে দেন, তবে তাকে 'দান' বলা কতটা ঠিক, তা ভাববার বিষয়।

নেত্রদান নিয়ে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই ধারণার সঠিক নামকরণের জন্য উপযুক্ত শব্দ থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া এই পক্ষকালে প্রকৃতপক্ষে তাৎক্ষণিক নেত্রদান হয় না, বরং নাগরিকেরা নেত্রদানের 'সংকল্প' বা শপথ গ্রহণ করেন।

কারঞ্জায় পাওয়া যাবে অত্যাধুনিক চক্ষু চিকিৎসা সেবা

মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার লাঞ্জি তহসিলের অন্তর্গত কারঞ্জা গ্রামটি আরএসএস-এর তৃতীয় সরসংঘচালক বালাসাহেব দেওরসের পৈতৃক ভিটে। সেখানে বর্তমানে 'বালাসাহেব ভাউরাও দেওরস সেবা ট্রাস্ট' কাজ করছে। এলাকাটিতে বিভিন্ন পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও চোখের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য উন্নত ব্যবস্থা ছিল না। সেই কারণেই মাধব নেত্রালয় এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এই প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কারঞ্জা ও তার আশেপাশের বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে। এই উদ্দেশ্যে মাধব নেত্রালয় এবং বালাসাহেব ভাউরাও দেওরস সেবা ট্রাস্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মাধব নেত্রালয়ের পক্ষে অবিনাশ অগ্নিহোত্রী এবং সেবা ট্রাস্টের পক্ষে অরবিন্দ মার্ডিকর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর ফলে স্থানীয় স্তরেই গ্রামীণ মানুষ বিশ্বমানের চক্ষু চিকিৎসার পরিষেবা পাবেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande