
নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (হি. স.): আসন্ন জাতিগত জনগণনার বর্তমান কাঠামো অবিলম্বে পরিবর্তনের দাবি জানাল কংগ্রেস। দলের সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যৌথ চিঠি লিখে জাতি গণনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘ওপেন-এন্ডেড’ প্রশ্নপদ্ধতিকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য জাতিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘ড্রপ-ডাউন তালিকা’ চালু এবং নতুন প্রশ্নমালা তৈরির আগে সর্বদলীয় বৈঠক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
যৌথ চিঠিতে খাড়গে ও রাহুল গান্ধী বলেন, সামাজিক ন্যায় সংক্রান্ত নীতিকে কার্যকর করতে দেশের বিভিন্ন জাতির প্রকৃত সংখ্যা এবং তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। বৈজ্ঞানিক ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে জাতিগণনা না হলে সংগৃহীত তথ্য অবিশ্বস্ত হতে পারে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সামাজিক ন্যায় সংক্রান্ত নীতির উপর।
তাঁদের বক্তব্য, জনগণনার সময় প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের জাতির যে নাম বলবেন, তা হুবহু নথিভুক্ত করা হলে একই জাতির একাধিক নাম সামনে আসতে পারে। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলে জাতি ও উপ-জাতির পৃথক স্থানীয় নাম প্রচলিত থাকায় এই পদ্ধতিতে জাতিগত তথ্যের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। ফলে সংগৃহীত তথ্য নীতিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান ‘ওপেন-এন্ডেড’ ব্যবস্থার পরিবর্তে তপশিলি জাতি ও উপজাতির গণনার ধাঁচে অন্যান্য জাতির জন্যও ‘ড্রপ-ডাউন তালিকা’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন দুই কংগ্রেস নেতা। সামাজিক ও শিক্ষাগত ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য প্রচলিত সরকারি তালিকা এবং ভারতীয় নৃতত্ত্ব সর্বেক্ষণের তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা যেতে পারে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
চিঠির সঙ্গে তেলঙ্গানা জাতি সমীক্ষা-২০২৪ এবং বিহার জাতি সমীক্ষা-২০২২-এ ব্যবহৃত কোড-সহ জাতির তালিকার প্রতিলিপিও সংযুক্ত করেছেন খাড়গে ও রাহুল। তাঁদের দাবি, ওই দুই রাজ্যে ড্রপ-ডাউন পদ্ধতিতে জাতির পরিচয় ও শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় স্তরেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।
দুই বিরোধী নেতা প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান প্রশ্নমালা বাতিল করে নতুন প্রশ্নমালা তৈরির প্রক্রিয়ায় সমস্ত রাজনৈতিক দলকে যুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞানী, জনমিতি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও ব্যাপক পরামর্শের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য