ইউপিআইয়ের ১০ বছর, চিদম্বরমকে নিশানা বৈষ্ণবের, ‘১০ বছর তাঁকে ভুল প্রমাণ করার নামে’
নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (হি. স.): ইউপিআইয়ের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি. চিদম্বরমের পুরনো সংসদীয় বক্তব্যকে ঘিরে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-
ইউপিআইয়ের ১০ বছর, চিদম্বরমকে নিশানা বৈষ্ণবের, ‘১০ বছর তাঁকে ভুল প্রমাণ করার নামে’


নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (হি. স.): ইউপিআইয়ের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি. চিদম্বরমের পুরনো সংসদীয় বক্তব্যকে ঘিরে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ চিদম্বরমের পুরনো সংসদীয় বক্তব্যের একটি ভিডিও শেয়ার করে বৈষ্ণব লেখেন, ‘‘১০ বছর তাঁকে ভুল প্রমাণ করার নামে।’’

বৈষ্ণবের শেয়ার করা ভিডিওতে ইউপিআই ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে চিদম্বরমের পুরনো আপত্তি ও আশঙ্কার বক্তব্য দেখা যায়। সেই বক্তব্যের পাশাপাশি বর্তমানে সবজি বিক্রেতা ও ছোট ব্যবসায়ীদের কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার ছবিও তুলে ধরা হয়েছে।

ইউপিআইয়ের ১০ বছরের সাফল্য নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করেছে বিজেপিও। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, চিদম্বরম একসময় ইউপিআই চালুর সিদ্ধান্তকে বড় ভুল বলেছিলেন এবং সংসদে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, দরিদ্র মানুষ, সবজি বিক্রেতা ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষে এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করা কঠিন হবে।

বিজেপির দাবি, বর্তমানে ইউপিআইয়ের ব্যাপক বিস্তার সেই আশঙ্কার সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি তুলে ধরেছে। ছোট দোকানদার, রাস্তায় ব্যবসা করা বিক্রেতা থেকে সাধারণ মানুষ—সকলের মধ্যেই কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা লেনদেন এখন কার্যত স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ১.৭৮ কোটি লেনদেন হয়েছিল। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২৪,১৬২ কোটি। একই সময়ে লেনদেনের মূল্য ০.০৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩১৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের মার্চে এক মাসে ২,২৬৪ কোটি ইউপিআই লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৯.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা।

শুরুতে মাত্র ২১টি ব্যাঙ্ককে নিয়ে ইউপিআইয়ের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এই নেটওয়ার্কে ৭০০-র বেশি ব্যাঙ্ক রয়েছে। দেশের ডিজিটাল পেমেন্টের প্রায় ৮৫ শতাংশ ইউপিআইয়ের মাধ্যমে হচ্ছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী রিয়েল-টাইম পেমেন্ট লেনদেনেও ভারতের অংশীদারি প্রায় ৪৯ শতাংশ।

ইউপিআইয়ের জনপ্রিয়তার অন্যতম দিক হল ছোট অঙ্কের লেনদেন। ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে ৮৬ শতাংশ ইউপিআই পেমেন্ট ৫০০ টাকার কম। ফলে ছোট দোকান, রাস্তায় ব্যবসা এবং দৈনন্দিন কেনাকাটায় এর ব্যবহার কতটা বেড়েছে, তারও ইঙ্গিত মিলছে।

ইউপিআই এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আটটি দেশেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande