
আগরতলা, ২৫ আগস্ট (হি.স.) : অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রেখে শিশুদের পড়াশোনা ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ ব্যাহত করে কোনও ধরনের আন্দোলন বা কর্মসূচি বরদাস্ত করা হবে না। দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, তবে তার জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের স্বাভাবিক পরিষেবা বন্ধ করা যাবে না। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার এভাবেই কড়া বার্তা দিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়।
মঙ্গলবার মহাকরণে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির বিভিন্ন সমস্যা, পরিষেবা এবং কর্মী-সহায়িকাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পৌরহিত্য করেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়। বৈঠকে দফতরের আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া থাকাটা স্বাভাবিক। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয় সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। তবে দাবি আদায়ের নামে হঠাৎ করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া কিংবা শিশুদের পড়াশোনা ও খাবারের ব্যবস্থা বন্ধ রাখা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্ত্রী বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির সঙ্গে সরাসরি শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও সার্বিক বিকাশের বিষয়টি জড়িত। ফলে কর্মী ও সহায়িকাদের আন্দোলনের কারণে শিশুদের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হলে তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে ভবিষ্যতে তৈরি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, কর্মী ও সহায়িকাদের দাবিগুলি নিয়ে সরকার সচেতন। তাঁদের সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যাগুলির সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গ্র্যাচুইটি প্রদান, সমকাজে সমবেতন, সরকারি কর্মচারীদের মতো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান-সহ একাধিক দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা আন্দোলন করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা রাজপথে মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং আইসিডিএস কার্যালয়ে ডেপুটেশন দিয়েছেন।
তবে সরকারের বক্তব্য, দাবি আদায়ের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনে আপত্তি নেই। কিন্তু সেই আন্দোলনের জেরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিষেবা বন্ধ করে শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টির অধিকার ব্যাহত করা যাবে না। ফলে আগামী দিনে কেন্দ্র বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামলে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও সহায়িকাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ