
কলকাতা, ২৭ আগস্ট (হি স)। ভ্রমণ ছিল নেশা। অবসর জীবনে সেই নেশাকেই সঙ্গী করে কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশ্যে নেপালে গিয়েছিলেন পাটুলির ৬২ বছরের অমরনাথ পাল। কিন্তু নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
স্বামীর কোনও খোঁজ না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী প্রথমা পাল। ফোনেও মিলছে না কোনও সাড়া।
চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও ভ্রমণের নেশা থেকে দূরে সরে যাননি অমরনাথবাবু।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। এবার কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের ইচ্ছা নিয়ে একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে একাই রওনা দিয়েছিলেন তিনি। গত ২১ আগস্ট শুরু হয়েছিল তাঁর সফর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল।
অমরনাথবাবুর স্ত্রী প্রথমা পালের সঙ্গে ফোনে সংবাদমাধ্যম যোগাযোগ করলে উদ্বেগে ভেঙে পড়েন তিনি। কাঁপা গলায় তাঁর প্রশ্ন, “আমার স্বামীর কোনও খোঁজ পাওয়া গিয়েছে? উনি এখন কেমন আছেন?” এরপর আর কথা বলতে পারেননি তিনি।
অমরনাথবাবুর মামা বারীন্দ্রনাথ কুণ্ডু ও মামি কাঞ্চন কুণ্ডু জানান, গতকালই তাঁরা প্রথম জানতে পারেন যে অমরনাথের সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ হচ্ছে না। এরপর বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হয়। তাঁদের কথায়, অমরনাথবাবু একাই কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন।
এবার তাঁর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতেই কৈলাস-মানস সরোবরের পথে পাড়ি দিয়েছিলেন।
কোথায় রয়েছেন অমরনাথবাবু, কেমন আছেন, কেনই বা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না— এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পরিবার। দ্রুত তাঁর সন্ধান মিলবে, এই আশাতেই অপেক্ষা করছেন পরিজনেরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত