
দুর্গাপুর, ২৭ আগস্ট (হি. স.): নেপালে বিধ্বংসী হড়পা বাণের জের। তৈরি হয়েছে ভয়াবহ বিপর্যয়। আর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন দুর্গাপুর সিটি সেন্টার ও কাঁকসার বামুনাড়ার ৫ জন। কোনও খোঁজ খবর না পাওয়ায় চরম উৎকন্ঠায় পরিবারের লোকজন।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভারত-তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান নামে। আমেরিকার ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'ইউনাইটেড স্টেটস জিয়োলজিক্যাল সার্ভে' (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্তে তুষারধসের কারণেই এই হড়পা বানের উৎপত্তি। এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ৪৬৮ জন পর্যটক, যার মধ্যে ১৪১ জন ভারতীয়। তাঁরা সকলেই কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। বর্তমানে নেপাল সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর ও কাঁকসার ৫ জন।
নিখোঁজরা হলেন কাঁকসার তপোবন সিটির ৫২ নম্বর, ৯-ডি টাওয়ারের বাসিন্দা অরিন্দম গাঙ্গুলি, তাঁর স্ত্রী মৌসুমী গাঙ্গুলি। গাঙ্গুলি দম্পতি দুজনেই ডিভিসি-র অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং তাঁদের মেয়ে অঙ্কিতা বেঙ্গালুরুতে কর্মরত। ঘটনার পর থেকেই চরম উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন নিখোঁজদের পরিজন ও প্রতিবেশীরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ জনের একটি ট্রাভেলার গ্রুপের সঙ্গে মানস সরোবরে তীর্থের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন তাঁরা। গত ২১ আগস্ট দুর্গাপুর থেকে রওনা দিয়ে, ২২ আগস্ট কলকাতা থেকে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করেন তাঁরা। সূচি অনুযায়ী, প্রথমে দু’দিন কাঠমান্ডুতে থাকার কথা ছিল তাঁদের। মঙ্গলবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের শেষবার কথা হয়েছিল। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁদের পোস্ট দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে আকস্মিকভাবেই তাঁদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোনে চেষ্টা করেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
দুর্গাপুরের এই পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েই তৎপরতা দেখিয়েছে প্রশাসন। কাঁকসা ব্লকের মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ তপোবন সিটিতে গিয়ে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। অন্যদিকে দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের অম্বুজা র বাসিন্দা দেবাশীষ ব্যানার্জী ও তার স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা ব্যানার্জী গিয়েছিলেন। দেবাশীষবাবু দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্তকর্মী। তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা। এছাড়াও নিঁখোজ রয়েছে দুর্গাপুর শ্রীনগরপল্লীর বাসিন্দা সুভাষচন্দ্র ঘোষ। নেপালের ভয়বহ ঘটনার খবরে চরম উৎকণ্ঠায় পরিবারের লোকজন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা