পাঁচ দিনেই আদমশুমারির কাজ শেষ করে নজির গড়লেন শিক্ষক
ঝাড়গ্রাম, ২৭ আগস্ট (হি. স.) : সরকারি ভাবে সময় দেওয়া হয়েছিল প্রায় দেড় মাস। কিন্তু সেই কাজই মাত্র পাঁচ দিনে শেষ করে নজির গড়লেন বিনপুর-২ ব্লকের এক গণনাকর্মী। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও স্কুলের দায়িত্ব সামলে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ এবং অন
পাঁচ দিনেই আদমশুমারির কাজ শেষ করে নজির গড়লেন শিক্ষক


ঝাড়গ্রাম, ২৭ আগস্ট (হি. স.) : সরকারি ভাবে সময় দেওয়া হয়েছিল প্রায় দেড় মাস। কিন্তু সেই কাজই মাত্র পাঁচ দিনে শেষ করে নজির গড়লেন বিনপুর-২ ব্লকের এক গণনাকর্মী। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও স্কুলের দায়িত্ব সামলে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইনে তা নথিভুক্ত—দুই কাজই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শেষ করেছেন কেন্দবনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দুলাল প্রতিহার।

বিনপুর-২ সার্কেলের কাঁকো অঞ্চলের কেন্দবনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দুলাল প্রতিহারকে আদমশুমারির হাউস লিস্টিং ব্লক (এইচএলও)-এর গণনাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দায়িত্বের এলাকা ছিল হাড়দা গ্রাম পঞ্চায়েতের আসনবনি গ্রাম, ব্লক নম্বর ০৫৪৩। নিজের সার্কেলের বাইরে গিয়ে তাঁকে এই দায়িত্ব পালন করতে হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই হাউস লিস্টিং ব্লকে মোট ১৫০টি বাড়ি রয়েছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি পরিবারের তথ্য এবং ২৪০টি সেন্সাস হাউসের বিবরণ নথিভুক্ত করতে হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের এই কাজের জন্য মোট ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করে অনলাইনে আপলোড করার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই অনলাইনে নিজেরা সঠিকভাবে তথ্য পূরণ করতে না পারায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পুরো ডেটা অনলাইনে আপলোডের দায়িত্বও নিতে হয় দুলালকে।

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ আগস্ট থেকে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দিকে সার্ভারের সমস্যার কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ২০ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হয়। এরপর স্কুলে ক্লাস নেওয়ার দায়িত্ব সামলে প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় বের করে গণনার কাজ চালিয়ে যান দুলাল। এক দিন রবিবার বাদ দিলে বাকি দিনগুলিতে স্কুলের কাজের পরও তিনি এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।

অবশেষে ২৪ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যেই ১৫০টি বাড়ির তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইন পোর্টালে আপলোডের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলেন তিনি। অর্থাৎ কার্যত মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই তাঁর দায়িত্বের সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

দুলালের কাজের সুপারভাইজার কাঁকো গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক ছত্রপতি মণ্ডল। তাঁর অধীনে মোট পাঁচ জন গণনাকর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুলাল প্রতিহারই প্রথম নিজের দায়িত্বের কাজ সম্পূর্ণ করেছেন। বাকি গণনাকর্মীদের কাজ এখনও শেষ হয়নি।

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ের আদমশুমারির তথ্য অনলাইনে নথিভুক্ত করার জন্য সরকারি ভাবে প্রায় ৪৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই হিসাবে ২০ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করে ২৪ আগস্টের মধ্যেই পুরো দায়িত্ব শেষ করা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। প্রান্তিক এলাকায় কাজ করতে গিয়ে নেটওয়ার্কের সমস্যাও সামলাতে হয়েছে তাঁকে। তার মধ্যেও এত দ্রুত কাজ শেষ করায় প্রশাসনের প্রশংসা পেয়েছেন দুলাল।

এক প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, ‘‘প্রান্তিক এলাকায় নেটওয়ার্কের সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যেও এত কম সময়ে পুরো কাজ শেষ করা সহজ নয়। দুলালবাবু অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজটি করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার প্রাপ্য।’’

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande