বীরভূমে টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার গ্রেফতার, তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য প্রকাশ
কলকাতা, ৩ আগস্ট (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত মামলায় পুলিশের হাতে এলো আরও এক বড় সাফল্য। রবিবার গভীর রাতে চালানো অভিযানে টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সোমবারে সিউড়ি আদা
গ্রেফতার


কলকাতা, ৩ আগস্ট (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত মামলায় পুলিশের হাতে এলো আরও এক বড় সাফল্য। রবিবার গভীর রাতে চালানো অভিযানে টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সোমবারে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে।

সীতেশ প্রামাণিক টুলু মণ্ডলের পাথর ব্যবসার ম্যানেজার ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বীরভূম জেলা পুলিশ রবিবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

সূত্র অনুযায়ী, বীরভূমের মহম্মদবাজার থানা এলাকার দেউচা গ্রামে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর থেকেই পুলিশ সীতেশের খোঁজে ছিল। উদ্ধারের সময়েই মিনার মণ্ডলকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এই মামলায় এর আগে গত শনিবার টুলু মণ্ডলের আরও এক আত্মীয় শেখ ওয়াসিমকে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ, সে নেপালে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পুলিশ তাকে সেই সময়েই ধরে ফেলে। ওয়াসিম টুলু মণ্ডলের ভাগ্নে বলে জানা গিয়েছে। সীতেশ প্রামাণিকের গ্রেফতারির ঘটনা এই মামলায় তৃতীয় গ্রেফতার।

কয়েক কোটি টাকার নগদ ও প্রচুর পরিমাণে সোনা উদ্ধার হওয়া সত্ত্বেও টুলু মণ্ডল এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। সূত্র অনুযায়ী, সে বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। যদিও চার মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সে পলাতক এবং এখনও পর্যন্ত তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মিনার মণ্ডল দাবি করেছে যে, টুলু মণ্ডল নিজের সম্পত্তির দেখভালের দায়িত্ব তাকে দিয়ে গিয়েছিল। তবে সে কোথায় গিয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য কারও কাছে নেই।

উদ্ধার হওয়া নগদ ও সোনার উৎস কী, পুলিশ এখন তা জানার চেষ্টা করছে। তদন্তে এটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, টুলু মণ্ডলের পাথর ব্যবসায় কোনও প্রকার অনিয়ম ছিল কি না, সরকারি রাজস্ব চুরি করে এই বিপুল সম্পত্তি তৈরি করা হয়েছে কি না, অথবা এর পেছনে লোকদের ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি বা জোর করে জমি দখলের মতো অপরাধ যুক্ত রয়েছে কি না।

মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ টুলু মণ্ডলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত নগদ টাকা ও বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ১৮৬ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের বিশ্বাস, সীতেশ প্রামাণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই পুরো মামলার সঙ্গে যুক্ত আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande