কর্মস্থলে আশাকর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, শালতোড়ার বিধায়কের বিরুদ্ধে মানসিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ
বাঁকুড়া, ৩ আগস্ট (হি.স.) : কর্মস্থলে গিয়ে এক আশাকর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ও বিধায়কের পদত্যাগের দাবিতে অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আশাকর্মীরা। এর ফলে হাসপাতাল চত্বরে ধুন্দুমার কাণ
কর্মস্থলে আশাকর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, শালতোড়ার বিধায়কের বিরুদ্ধে মানসিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ


বাঁকুড়া, ৩ আগস্ট (হি.স.) : কর্মস্থলে গিয়ে এক আশাকর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ও বিধায়কের পদত্যাগের দাবিতে অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আশাকর্মীরা। এর ফলে হাসপাতাল চত্বরে ধুন্দুমার কাণ্ড ঘটে।

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরির মানসিক হেনস্থা ও চোর অপবাদের আতঙ্ক সহ্য করতে না পেরে ব্রেন স্ট্রোকে মারা গেছেন আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডল (৩৮)। তাঁর বাড়ি শালতোড়া বিধানসভার গঙ্গাজলঘাটি থানার ভালুকাথোল গ্রামে। তিনি স্থানীয় গোপীনাথপুর সাব-সেন্টারের কর্মী ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার বিধায়ক চন্দনা বাউরির একটি ভাইরাল ভিডিও কেন্দ্র করে। সেখানে দেখা যায়, বিধায়ক কয়েক জন আশাকর্মীকে রীতিমতো ধমক দিয়ে বলছেন, আপনারা কি চুরি করে চাকরি পেয়েছেন? পাশাপাশি আরও একাধিক অপমানজনক মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে।

বর্তমানে আশাকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আয়ুষ্মান ভারতের ই-কেওয়াইসি করার। নিয়ম অনুযায়ী উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা করার কথা। কিন্তু বিধায়কের অভিযোগ, তাঁর গ্রাম কেলাইয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আশাকর্মী নিজের বাড়িতে উপভোক্তাদের ডেকে ই-কেওয়াইসি করাচ্ছেন। এর কৈফিয়ৎ চাইতে রবিবার চন্দনা বাউরি ওই আশাকর্মীর বাড়ি গিয়ে শাসানি ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি চরম অপমান করেন বলে অভিযোগ। বিধায়কের এই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার প্রভাবে আশাকর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারই জেরে রুম্পা মণ্ডলের মতো একজন কর্মী ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারালেন বলে দাবি করেছেন আশাকর্মী সংগঠনের গঙ্গাজলঘাটি ব্লক সভাপতি মণিকা দাস। তিনি জানান, রুম্পা রবিবার রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করে সোমবার যথারীতি গোপীনাথপুর সাব-সেন্টারে কাজে যোগ দেন। সেখানে সহকর্মীদের সঙ্গে বিধায়কের আচরণ ও ভিডিও ভাইরাল নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কাজের প্রচণ্ড চাপ এবং বিধায়কের অপমানের মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

রুম্পা মণ্ডলকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতাল চত্বরে গোটা বিধানসভার আশাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁরা বিধায়কের পদত্যাগ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মৃতদেহ আটকে রাখেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। একই দাবিতে এদিন বাঁকুড়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছেও স্মারকলিপি ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আশাকর্মী সংগঠনের জেলা নেতৃত্ব।

এদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন বিধায়ক চন্দনা বাউরি। তাঁকে দেখে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চন্দনা বাউরি বলেন, আয়ুষ্মান ভারতের ই-কেওয়াইসি বাড়ি বাড়ি গিয়ে করার কথা। কিন্তু আশাকর্মীরা তা না করে উপভোক্তাদের নিজের বাড়িতে আসতে বাধ্য করছেন। এ নিয়ে আমার কাছে বিস্তর অভিযোগ আসছিল। সে কারণেই আমি গ্রামের আশাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে বলেছিলাম, এটা তৃণমূল সরকার নয়, বিজেপির সরকার। এখানে উপভোক্তাদের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। চুরি করে চাকরি পাওয়ার মন্তব্য প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন, ওরা যদি বাড়িতে ডেকে ই-কেওয়াইসি করিয়ে ভুল করে থাকে, তবে আমার ওই মন্তব্য করা ভুল হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পরই স্পষ্ট জানা যাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande