
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ৩ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথের কুমারঘাট সফরের প্রাক্কালে বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধি, স্মার্ট মিটারে ইউনিট কম পাওয়া এবং রিচার্জ সংক্রান্ত নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করে কুমারঘাট বিদ্যুৎ নিগমের ডিভিশন অফিসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন একাধিক গ্রাহক। মন্ত্রী নতুন ভবনের শিলান্যাস করতে অফিসে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক মিনিট আগে গ্রাহকদের এই বিক্ষোভ ও অসন্তোষের ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
সোমবার ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমায় কৃষি দফতরের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং বিদ্যুৎ নিগমের ডিভিশন ও সাব-ডিভিশন অফিসের নতুন ভবনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে অংশ নেন কৃষি, বিদ্যুৎ ও আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলাকার জনপ্রতিনিধি, বিদ্যুৎ নিগম ও কৃষি দফতরের আধিকারিকরা।
তবে অভিযোগ, এদিন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অনুষ্ঠানে পৌঁছান মন্ত্রী। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় আমন্ত্রিত অতিথি, সরকারি আধিকারিক এবং সাধারণ মানুষকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
এদিকে মন্ত্রী বিদ্যুৎ নিগমের নতুন ভবনের শিলান্যাসে পৌঁছানোর আগে অফিসে রিচার্জ করতে আসা গ্রাহকরা স্মার্ট মিটার ও রিচার্জ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গ্রাহক বিপিন দেবনাথ অভিযোগ করেন, আগে ৩০০ টাকা দিয়েও বিদ্যুৎ রিচার্জ করা যেত, কিন্তু বর্তমানে অফিসে গিয়ে ন্যূনতম ৭০০ টাকা রিচার্জ করতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, বেশি টাকা রিচার্জ করেও আগের তুলনায় কম ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে গ্রাহকদের সঙ্গে অন্যায় বলে মন্তব্য করেন এবং বিদ্যুৎ নিগমের পরিষেবা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আরেক গ্রাহক অপর্ণা সরকার জানান, তিনি ৫০০ টাকা রিচার্জ করতে অফিসে গেলেও তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এক হাজার টাকার নিচে রিচার্জ করা যাবে না। তাঁর অভিযোগ, স্মার্ট মিটার চালু হওয়ার পর থেকে গ্রাহকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং আগের মিটারের তুলনায় বর্তমান ব্যবস্থায় অসুবিধা বেড়েছে।
অন্যদিকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, বিদ্যুৎ দফতর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জপূর্ণ একটি বিভাগ। শিল্প, কৃষি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালের আগে বিদ্যুৎ নিগমের আর্থিক ও পরিকাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল এবং এখনও সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই নিগম প্রাপ্য অর্থ আদায় করতে পারছে না, যার ফলে আর্থিক চাপ বাড়ছে।
মন্ত্রী এদিন কুমারঘাটে বিদ্যুৎ নিগমের নতুন ভবনের শিলান্যাসের পাশাপাশি কৃষি দফতর বিভিন্ন শেডঘর, কৃষি উদ্যান এবং ভূমি সংরক্ষণ দফতরের নতুন ভবনেরও উদ্বোধন করেন।
এদিকে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি, স্মার্ট মিটারে ইউনিট কম পাওয়া এবং রিচার্জের ন্যূনতম সীমা নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিদ্যুৎ পরিষেবার মান উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর উপস্থিত না হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ ও মন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে কুমারঘাটে বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এখন গ্রাহকদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ নিগম কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ