টানা বর্ষণে জলবন্দি নয়াগ্রামের বড়শোল, দেওয়াল ধসে বৃদ্ধার মৃত্যুতে জোর আলোড়ন
ঝাড়গ্রাম, ৩ আগস্ট (হি.স.): একটানা বর্ষণে কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েছে ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম ব্লকের নেগুই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়শোল গ্রাম। উপযুক্ত জলনিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির জল জমে ঘরে ঢুকে পড়েছে বহু পরিবারের। সবচেয়ে বেশি বিপদের মু
টানা বর্ষণে জলবন্দি নয়াগ্রামের বড়শোল, দেওয়াল ধসে বৃদ্ধার মৃত্যুতে জোর আলোড়ন


ঝাড়গ্রাম, ৩ আগস্ট (হি.স.): একটানা বর্ষণে কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েছে ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম ব্লকের নেগুই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়শোল গ্রাম। উপযুক্ত জলনিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির জল জমে ঘরে ঢুকে পড়েছে বহু পরিবারের। সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়েছে গ্রামের মাটির বাড়িগুলি। ইতিমধ্যেই মাটির দেওয়াল ভেঙে চাপা পড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা গ্রামে।

নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের উদ্যোগে গ্রামের আইসিডিএস কেন্দ্র ও বড়শোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন গ্রামবাসী আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি পরিদর্শনে সোমবার বড়শোল গ্রামে যান নয়াগ্রামের বিডিও শান্তনু সরকার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্লক প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরাও। আশ্রয় শিবিরে থাকা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন বিডিও। পাশাপাশি যাঁরা প্রকৃত উপভোক্তা হয়েও এখনও সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদের চিহ্নিত করতে দ্রুত সমীক্ষার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বড়শোল গ্রামটি ভৌগোলিকভাবে নিচু এলাকায় হওয়ায় চারদিকের বৃষ্টির জল এসে এখানে জমে যায়। অতীতে গ্রামে রাস্তা নির্মাণ হলেও জল বেরোনোর উপযুক্ত নিকাশি নর্দমা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে সামান্য টানা বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে বহু প্রকৃত গরিব পরিবার এখনও সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এদিন আশ্রয় শিবিরে থাকা বাসিন্দারা প্রশাসনিক আধিকারিকদের সামনে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের বক্তব্য, মৃত বৃদ্ধার যদি একটি পাকা বাড়ি থাকত, তবে হয়তো এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটত না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য শিবিরে থাকা মানুষদের জন্য ত্রাণের পাশাপাশি নিয়মিত রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরেও দুর্গতদের হাতে খাবার তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বড়শোল গ্রামের বহু মাটির বাড়ির দেওয়াল দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তারই জেরে গত শনিবার বিকেলে নিজের বাড়িতে মাটির দেওয়াল ধসে মৃত্যু হয় ৭৫ বছরের স্বর্ণা কালিন্দীর। ঘটনার সময় গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দিনমজুরের কাজে বাইরে ছিলেন। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখেন, একাধিক বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে এবং অনেক মাটির দেওয়ালে বিপজ্জনক ফাটল ধরেছে। ওই সময় স্বর্ণা কালিন্দী বাড়ির ভিতরেই ছিলেন। আচমকাই কাঁচা দেওয়াল ভেঙে তাঁর ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

খবর পেয়ে নয়াগ্রাম থানার পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান। পাশাপাশি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলিও পরিদর্শন করা হয়। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে গ্রামের বহু পরিবার নিজেদের বাড়ি ছেড়ে আপাতত অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande