
আরামবাগ, ৪ আগস্ট (হি.স.): রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই আরামবাগকে নতুন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পর থেকেই প্রস্তাবিত আরামবাগ জেলার সীমানা এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, গোঘাট-১, গোঘাট-২, আরামবাগ, খানাকুল-১, খানাকুল-২, পুরশুড়া এবং তারকেশ্বর—এই এলাকাগুলিকে নিয়ে আরামবাগ জেলা গঠিত হতে পারে। প্রস্তাবিত জেলায় দুটি মহকুমা গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে—আরামবাগ মহকুমা এবং পুরশুড়া মহকুমা।
প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, আরামবাগ মহকুমার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে গোঘাট-১ ও গোঘাট-২ ব্লক, কামারপুকুর পৌরসভা এবং আরামবাগ ব্লক। অন্যদিকে পুরশুড়া মহকুমার অধীনে থাকতে পারে খানাকুল-১, খানাকুল-২, পুরশুড়া এবং তারকেশ্বর ব্লক ও সংশ্লিষ্ট পৌরসভা।
পুরশুড়া মহকুমা গঠিত হলে সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দফতর তৈরির প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে মহকুমা কার্যালয়, মহকুমা আদালত, এসডিপিও কার্যালয়, এসডিএলআরও কার্যালয়-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করার কাজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার পুরশুড়ার বিভিন্ন সম্ভাব্য এলাকা পরিদর্শন করা হয়। পুরশুড়া বিডিও অফিস, কৃষি ফার্ম, বিদ্যাসাগর মাঠ সংলগ্ন বিদ্যাসাগর ভবন এবং শ্মশান সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন আরামবাগের মহকুমাশাসক, পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ, পুরশুড়ার বিডিও এবং বিএলআরও। সম্ভাব্য প্রশাসনিক ভবন ও দফতর তৈরির জন্য কোন এলাকা উপযুক্ত হতে পারে, তা খতিয়ে দেখতেই এই পরিদর্শন বলে জানা যায়।
পরিদর্শনের পর পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ জানান, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরশুড়া মহকুমা গঠিত হলে একাধিক প্রশাসনিক দফতরের প্রয়োজন হবে। সেই কারণে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য জায়গাগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্ভর করবে সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও পরবর্তী নির্দেশিকার উপর।
আরামবাগ জেলা গঠনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে গোঘাট, আরামবাগ, খানাকুল, পুরশুড়া এবং তারকেশ্বর এলাকার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে নতুন জেলা ও মহকুমার চূড়ান্ত সীমানা এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়ে এখন স্থানীয় মানুষের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA